দ্য ওয়াল ব্যুরো : মঙ্গলবার লখনউতে বিএসপি নেত্রী মায়াবতীর জন্মদিন পালন করলেন তাঁর অনুগামীরা। দলিত নেত্রী এদিন পড়লেন ৬৩ বছরে। সেই উপলক্ষে মায়াবতী বললেন, এসপি ও বিএসপি যদি ভোটে জেতে, সেই হবে তাঁর জন্মদিনের উপহার। সেইসঙ্গে তীব্র সমালোচনা করলেন কংগ্রেস ও বিজেপির।
দীর্ঘদিনের শত্রুতা ভুলে মায়াবতী এবং সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব জোট বেঁধেছেন কিছুদিন আগে। জোটের বাইরে রেখেছেন কংগ্রেসকে। যদিও অনেকে মনে করছেন, ইচ্ছা করেই রাহুল গান্ধীর দলকে বাইরে রাখা হয়েছে। কারণ কংগ্রেস জোটে থাকলে ভোটে একপ্রকার মেরুকরণ ঘটত। কংগ্রেস উচ্চবর্ণের যে ভোট পায় তা চলে যেত বিজেপির ঝুলিতে। এই অবস্থায় কংগ্রেস বাইরে থাকলেই বিজেপি বিরোধীদের সুবিধা।
মায়াবতী এদিন বলেন, আমি বিএসপি এবং সমাজবাদী পার্টির সমর্থকদের উদ্দেশে আহ্বান জানাই, নিজেদের মধ্যেকার বিভেদ ভুলে একসঙ্গে কাজ করুন। জোটের জয় সুনিশ্চিত করুন। সেই হবে আমার জন্মদিনের উপহার। আজকের দিনটা জনকল্যাণ দিবস হিসাবে পালন করুন। দরিদ্রদের সাহায্য করুন।
অন্য একটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সপার সঙ্গে আমাদের দল জোট বাঁধার ফলে বিজেপির এখন রাতে ঘুম নেই। পাঁচ রাজ্যের ভোটে মানুষ বিজেপিকে শিক্ষা দিয়েছেন। কংগ্রেস সরকারকেও মানুষ প্রশ্ন করছেন। কারণ তারাও প্রতিশ্রুতি পালন করতে পারেনি।
ক্ষমতায় এসে কংগ্রেস যেভাবে তিন রাজ্যে কৃষি ঋণ মকুব করে দিয়েছে, তারও সমালোচনা করেন মায়াবতী। তাঁর কথায়, যে চাষিরা ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়েছেন, কেবল তাঁদেরই ঋণ মকুব করা হয়েছে। এতে খুব একটা লাভ হবে না। কৃষকদের বেশিরভাগ সুদখোরদের থেকে ঋণ নিয়েছেন। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের উচিত তাঁদের জন্য কোনও ব্যবস্থা করা।
অন্য একটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএসপি মনে করে, স্বামীনাথন কমিশনের সুপারিশ মেনে শস্যের দাম বাড়ানো উচিত। তাছাড়া প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষকরাও ঋণ নেন। কিন্তু তাঁদের কোনও ছাড় দেওয়া হয়নি। নোটবন্দি ও জিএসটির ফলে তাঁদের দুর্দশা বৃদ্ধি পেয়েছে।
মায়াবতীর প্রস্তাব, সরকারের উচিত, সব ঋণ মকুব করা। এক্ষেত্রে কোনও নির্দিষ্ট দিন বা ধাপ রাখা উচিত নয়। সরকার যদি ১০০ শতাংশ ঋণ না মকুব করে তাহলে কৃষকদের আত্মহত্যা চলতেই থাকবে।
বিজেপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, তাঁদের বিভিন্ন নীতিতে লাভবান হচ্ছে ধনীরা। রাফায়েল বিতর্ক সম্পর্কে তিনি বলেন, অস্ত্র কেনা নিয়ে দুর্নীতি রুখতে দীর্ঘমেয়াদি নীতি তৈরি করা উচিত। এক্ষেত্রে বিরোধীদের সঙ্গেও আলোচনা করলে ভালো হয়।