দ্য ওয়াল ব্যুরো : কিছুদিন আগে ওপেক গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলি রাশিয়াকে প্রস্তাব দেয়, তেল উৎপাদন দৈনিক ১৫ লক্ষ ব্যারেল কমানো হোক। রাশিয়া সেই অনুরোধ মানেনি। তখন তাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তেলের দাম কমাতে থাকে সৌদি আরব। সৌদি আরবের তেল কোম্পানি আরামকো জানায়, তারা ব্যারেল পিছু তেলের দাম কমিয়ে দেবে ছয় ডলার। এর ফলে রবিবার রাতে অপরিশোধিত তেলের প্রতি ব্যারেলের দাম ৩২ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ২৮ ডলার। আশঙ্কা করা হচ্ছে, তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ২০ ডলার পর্যন্ত নামতে পারে।
১৯৯১ সালে প্রথমবার উপসাগরীয় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরে আর কখনও তেলের দাম এত কমেনি। এর ফলে ইরাক ও নাইজেরিয়ার মতো যে দেশগুলির অর্থনীতি তেলের ওপরে নির্ভরশীল, তারা বিপদে পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে এর ফলে। সৌদি আরবের মতো তেল উৎপাদনকারী দেশগুলির গুরুত্ব কমতে পারে। তেল এত সস্তা হওয়ায় আগামী দিনে বিকল্প এনার্জির বদলে পেট্রোল, ডিজেল ব্যবহারের প্রবণতা বাড়বে। ফলে পরিবেশ বাঁচানোর লড়াইও ধাক্কা খাওয়ার সম্ভাবনা আছে।
এমনিতে বিশ্ব জুড়ে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ফলে তেলের চাহিদা কমেছে। তার ওপরে তেলের দাম স্থিতিশীল রাখার যে ব্যবস্থা ছিল, তাও কার্যত ভেঙে পড়েছে।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ফলে বিশ্ব জুড়েই নামছে শেয়ার সূচক। ভারতে শেয়ার সূচক নেমেছে চার শতাংশের বেশি। সোমবার সেনসেক্স পড়েছে ১৭১৮.৮১ পয়েন্ট। তা এখন দাঁড়িয়েছে ৩৫, ৮৫৭.৮১ এর ঘরে। নিফটি পড়েছে ৪৬৪ পয়েন্ট। সেই সূচক এখন দাঁড়িয়েছে ১০, ৫২৫.৪৫ এর ঘরে।
নিফটিতে নথিভুক্ত ৫০ টি সংস্থার মধ্যে ৪৬ টির শেয়ারেরই দাম কমেছে। শতাংশের বিচারে যে সংস্থাগুলির শেয়ারের দাম সবচেয়ে বেশি কমেছে, তার মধ্যে আছে ওএনজিসি, বেদান্ত, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ, জি এন্টারটেনমেন্ট, ইন্ডাসইন্ড ব্যাঙ্ক এবং টাটা স্টিল। তাদের শেয়ারের দাম ৫.৯৬ থেকে ১০.৬২ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।
সেনসেক্সে নথিভুক্ত শেয়ারগুলির মধ্যে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ, আইসিআইসিআই ব্যাঙ্ক, এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক ও ইনফোসিসের শেয়ারের দর কমেছে সবচেয়ে বেশি।
এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলিতে শেয়ারের দর নামছে হু হু করে। সেখানে শেয়ার সূচক নিক্কেইয়ের পতন হয়েছে ৪.৭ শতাংশ। অস্ট্রেলিয়াতেও শেয়ার সূচক নেমেছে পাঁচ শতাংশ।
আমেরিকায় ওয়াল স্ট্রিটে ই-মিনি সূচক নেমেচ্ছে ৪.৬ শতাংশ। ইউরোপে ইউরোস্টকস ফিফটি ও এফটিএসই সূচক নেমেছে ৪.৪ ও ৪.৮ শতাংশ হারে।