তেল, কিন্তু ভোজ্য নয়, জ্বালানিও নয়। ওড়িশার গজপতি জেলায় তৈরি হচ্ছে এক বিশেষ ‘তেল’, যা ইতিমধ্যেই নেশার দুনিয়ায় আলোড়ন ফেলেছে।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 10 January 2026 15:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তেল, কিন্তু ভোজ্য নয়, জ্বালানিও নয়। ওড়িশার গজপতি জেলায় তৈরি হচ্ছে এক বিশেষ ‘তেল’, যা ইতিমধ্যেই নেশার দুনিয়ায় আলোড়ন ফেলেছে। গাঁজার সঙ্গে বিশেষ রাসায়নিক মিশিয়ে তৈরি এই তরল নেশাদ্রব্য (Liquid cannabis) এখন পুলিশের চোখে ধুলো দিতে পাচারের নতুন অস্ত্র হয়ে উঠছে। শুধু দক্ষিণবঙ্গ (South Bengal) নয়, বিহার, কর্ণাটক-সহ একাধিক রাজ্য থেকে এই ‘তেল’-এর অর্ডার আসতে শুরু করেছে বলেই গোয়েন্দা সূত্রে খবর।
গোয়েন্দাদের দাবি, সাম্প্রতিক এক সিনেমায় তরল গাঁজা পাচারের দৃশ্য দেখানো হলেও, বাস্তবে তা এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে, এমন ধারণা তাঁদেরও ছিল না। তবে কয়েকজন দাগি কারবারিকে ট্র্যাক করতে গিয়েই এই নতুন নেশার ‘ইনপুট’ হাতে আসে। তারপর থেকেই ওঁত পেতে রয়েছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা।
সূত্রের খবর, ওড়িশা থেকেই দক্ষিণবঙ্গে সবচেয়ে বেশি গাঁজা ঢোকে। তার পাশাপাশি অসম ও কোচবিহারও পরিচিত রুট। গাড়ি কিংবা ট্রেনে গাঁজা আনা হলে পুলিশের নজরে পড়ার আশঙ্কা বাড়ে। সেই কারণেই এবার তরল আকারে পাচারের পথ বেছে নিয়েছে সিন্ডিকেট। বোতলে ভরে সহজেই তা বহন করা যায়, এই সুবিধাকেই কাজে লাগাচ্ছে কারবারিরা।
এক পুলিশ আধিকারিক জানান, এরাজ্যের তুলনায় কেরলে গাঁজার দাম প্রায় তিনগুণ। সেই বাজার ধরতেই পশ্চিমবঙ্গের কারবারিরা তরল গাঁজা কেরলে পাঠিয়ে মোটা টাকা রোজগারের ছক কষেছে। কয়েকদিন ধরেই সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের। তরল গাঁজা থেকে নেশা আরও তীব্র হতে পারে, এই আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তাঁরা।
তদন্তকারীদের আরও দাবি, শুধু যুবকরাই নন, যুবতীরাও ক্রমশ গাঁজার নেশায় জড়িয়ে পড়ছেন। অনেকেই পাচারচক্রের ‘ক্যারিয়ার’ হিসেবে কাজ শুরু করেছেন। কয়েকদিন আগেই মেমারি থানার পুলিশ এক মহিলাকে গ্রেফতার করে। তার বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় কয়েক কুইন্টাল গাঁজা। ওড়িশা থেকে গাঁজা এনে ছোট ছোট পুরিয়া করে বিক্রি করত সে। একইভাবে বর্ধমান স্টেশন থেকে দু’জন মহিলা ক্যারিয়ারকে গ্রেফতার করে আরপিএফ। কোচবিহার থেকে গাঁজা নিয়ে আসার সময় ব্যাগ দেখে সন্দেহ হওয়ায় জেরা করে তাদের ধরা হয়।
তরল গাঁজা পাচার সহজ বলেই নতুন এই পদ্ধতিতে ব্যবসা শুরু করেছে সিন্ডিকেট। তবে শুরুতেই সেই খবর গোয়েন্দাদের কানে পৌঁছেছে। ইতিমধ্যে ওড়িশার বাসিন্দা কয়েকজন কারবারিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ‘তেল’ যাতে কোনওভাবেই গন্তব্যে পৌঁছতে না পারে, তার জন্য এখন থেকেই ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেছেন তদন্তকারীরা। নেশার এই নতুন রূপ যে বড়সড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে চলেছে, তা বুঝতে পারছে প্রশাসনও।