
শেষ আপডেট: 17 November 2022 05:18
ইসলামের (Islam) নবী (Prophet) মহম্মদকে নিয়ে বিজেপির প্রাক্তন জাতীয় মুখপাত্র নূপুর শর্মার (Nupur Sharma) মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্কের আগুনে জ্বলছে সারা দেশ। শুধু দেশে নয়, দেশের বাইরেও নিন্দার ঝড়ের মুখে ওই মুখপাত্রকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে গেরুয়া শিবির। যদিও তাতেও থামছে না বিতর্কের ঝড়। দেশ জুড়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভের পাশাপাশি ঘটেছে একাধিক হিংসার ঘটনাও। ১ জুলাই নূপুরের মন্তব্যের জন্য তাঁকে তিরস্কার করে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
দেশের একাধিক থানায় তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। থানাগুলির তরফে নূপুরকে ডেকে পাঠানো হলেও সম্পূর্ণরূপে বেপাত্তা পদ্ম শিবিরের প্রাক্তন এই হেভিওয়েট নেত্রী। আত্মগোপন করে রয়েছেন তিনি। দিল্লিতে গিয়েও তাঁকে খুঁজে পায়নি পুলিশ। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর কেটে গেছে প্রায় ৪ দিন। ক্ষমা চাওয়া তো দূরের কথা, এখনও অধরা নূপুর। আইনজীবীর মাধ্যমেও ন্যূনতম কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি তাঁর তরফে।
এই বিষয়ে দ্য ওয়ালকে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন সিপিএম নেতা শমীক লাহিড়ী, তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ, লেখক আবুল বাশার।
বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কোনও মন্তব্য করতে চাননি রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য।
কুণাল ঘোষের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকেই সম্পূর্ণ সুরক্ষা দিয়ে আত্মগোপনে সাহায্য করা হচ্ছে বিজেপির এই প্রাক্তন জাতীয় মুখপাত্রকে। 'দুর্ভাগ্য হল, এঁরা মন্তব্য করবেন, আর তাতে সারা দেশে অশান্তি সৃষ্টি হবে,' দাবি কুণালের।
একই অভিমত সিপিএম নেতা শমীক লাহিড়ীর। তাঁর কথায়, 'ওকে তো বিজেপি লুকিয়ে রাখছে। বিজেপি তো ওর বাড়ির সামনে পুলিশ বসিয়েছিল, দিল্লি পুলিশ। দিল্লি পুলিশ যে ওর বাড়ির সামনে বসেছিল, তাহলে তো দিল্লি পুলিশের কমিশনারকে জেরা করা দরকার।' তাঁর আরও প্রশ্ন, 'যাঁর বাড়ির সামনে পুলিশ বসেছিল, সে আত্মগোপন করে কী করে?'
সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশের পরেও ক্ষমা না চাওয়া প্রসঙ্গে তাঁর দাবি, 'এরা কি কোর্টকে মানে? এরা তো দেশের আইন-কানুন, সংবিধান, এসব ধ্বংস করার জন্য এসেছে।'
বিশিষ্ট লেখক আবুল বাশারের দাবি, 'নূপুর শর্মার উচিত আত্মসমর্পণ করে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া। সর্বোচ্চ আদালতের নিদেশ মানা উচিত তাঁর। ক্ষমা চাইলে যে জিনিসটা মিটে যায়, সেটা তো করাই উচিত। কী এমন কঠিন কাজ!'
সুপ্রিম কোর্ট মিটমাটের দারুণ পথ বের করে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশিষ্ট এই লেখক। আদালতের কথা না শুনলে সমস্যা আরও বাড়বে বলেই তাঁর অভিমত। তিনি বলেন, নূপুরের মন্তব্যে বহু দেশের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হতে বসেছিল। তা মেরামত হলে বৈদেশিক বাণিজ্যের উন্নতি হবে, এমনটাই অভিমত তাঁর।
ক্ষমা চাওয়া নিয়ে নূপুর নীরব, তাঁকে নিয়ে মন্তব্যে মহিলা কমিশনের রোষে অখিলেশ