তবে অ্যাপটিটিউড টেস্টে ৫ নম্বর ‘বোনাস’-এর দাবি ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে — এর আইনগত ভিত্তি কোথায়? প্রশিক্ষণহীনদের চাকরি ফিরিয়ে দিতে গিয়ে প্রশিক্ষিতদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার কি ক্ষুণ্ণ হবে না?

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 11 September 2025 20:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) এজলাসে বৃহস্পতিবার ফের উত্তাল হল ৩২ হাজার প্রশিক্ষণহীন শিক্ষককে ঘিরে বহুচর্চিত মামলা (32,000 Jobless Teacher)। চাকরি বাঁচাতে এবার ‘অ্যাপটিটিউড টেস্ট’-এ অতিরিক্ত ৫ নম্বর দেওয়ার প্রস্তাব দিলেন মামলাকারীদের আইনজীবী।
তাঁর যুক্তি, ‘‘যদি প্রত্যেককে ওই পাঁচ নম্বর দেওয়া হয়, তা হলে নতুন করে মেধাতালিকা তৈরি সম্ভব। অনেকের চাকরি বাঁচানো যাবে।’’
তবে মামলাকারীদের আইনজীবীর এই দাবিকে ঘিরেই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ প্রশ্ন তোলে, ‘‘তা হলে প্রশিক্ষিত প্রার্থীরা কোথায় দাঁড়াবেন?’’ জবাবে মামলাকারীদের আইনজীবী বলেন, ‘‘প্রশিক্ষিতরা তো এমনিতেই ১৫ নম্বরের বাড়তি সুবিধা পান। তাঁদের ক্ষতি হবে না।’’
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের মে মাসে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের রায়ে চাকরি হারিয়েছিলেন ৩২ হাজার প্রশিক্ষণহীন শিক্ষক। তাঁর নির্দেশ ছিল, রাজ্যকে তিন মাসের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যায় পর্ষদ। পরে বিষয়টি যায় সুপ্রিম কোর্টে।
সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চকে নির্দেশ দেয়, সমস্ত পক্ষের বক্তব্য শুনে রায় দিতে। সেই অনুযায়ী মামলার শুনানি চলছে বিচারপতি চক্রবর্তী ও বিচারপতি মিত্রের বেঞ্চে।
তবে অ্যাপটিটিউড টেস্টে ৫ নম্বর ‘বোনাস’-এর দাবি ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে — এর আইনগত ভিত্তি কোথায়? প্রশিক্ষণহীনদের চাকরি ফিরিয়ে দিতে গিয়ে প্রশিক্ষিতদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার কি ক্ষুণ্ণ হবে না?
ফলে ৩২ হাজার চাকরির ভবিষ্যৎ এখন আদালতের রায়ের দিকে তাকিয়ে।