দ্য ওয়াল ব্যুরো: গাছেদের যে প্রাণ আছে, এ তত্ত্ব সেই কবেই আবিষ্কার করেছিলেন ভারতীয় বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসু। কিন্তু সে তত্ত্ব বইয়ের পাতায় যে ভাবে স্থান পেয়েছে, এ নিয়ে বাস্তবে সে ভাবে ভাবা হয়নি মোটেই। হলে যত্রতত্র গাছ কেটে সবুজ ধ্বংস করা হয়তো এমন অনায়াস ও ব্যাপক হতো না! বিশেষ করে বিশ্ব জুড়ে যখন শেষ হতে বসেছে প্রকৃতি, তখন তাকে বাঁচানোর জন্যও, গাছ কাটা রুখতে তেমন কোনও হেলদোল কোথাও চোখে পড়ে না।
কিন্তু নরওয়ে দৃষ্টান্ত রাখল। জাতীয় আইন অনুযায়ী নরওয়েই প্রথম দেশ, যেখানে গাছ কাটা আইন করে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে! একই সঙ্গে সে দেশে ঘোষণা করা হয়েছে, কেউ বা কোনও সংস্থা গাছ কাটার কাজ করলে তাকে সরকার কোনও সাহায্য তো করবেই না, উল্টে শাস্তি দেবে পর্যাপ্ত। নরওয়ের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে বিশ্ববাসী। পৃথিবীকে রক্ষা করতে সমস্ত দেশেই এমনটা চালু করা উচিত বলে মত অনেকের।
বস্তুত, পৃথিবী বললেই আমাদের মনের আয়নায় যে নীল-সবুজ মেশানো গোলকের ছবিটা সাধারণত ভেসে ওঠে, পৃথিবীর বাইরে থেকে তোলা উপগ্রহ চিত্র কিন্তু সে ছবির থেকে অনেকটাঅ আলাদা। বছরের পর বছর ধরে বিশ্ব জুড়ে বৃক্ষমেধ যজ্ঞ চলার ফলে, পৃথিবীর সবুজের পরিমাণ অনেকটাই কমে এসেছে। এবং তা দিন দিন কমেই চলেছে। হারিয়ে যাচ্ছে সবুজ, রুক্ষ হয়ে যাচ্ছে ধরণী।
ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড বা ডব্লিউডব্লিউএফ-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার মধ্যে ১২৫ বিলিয়ন মানুষ জীবিকা নির্বাহের জন্য অরণ্যের উপর কোনও না কোনও ভাবে নির্ভরশীল। নির্বিচারে অরণ্য নিধনের প্রভাব শুধু অরণ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, তার জের এসে পড়ে নদী-বন্যা-জমিতেও। ফলে গাছ কাটা মানেই বহু স্তরে ক্ষতির মুখোমুখি হয় পৃথিবী।
এই অবস্থায় গাছ কাটা রোখা বিশেষ ভাবে প্রয়োজন। এবং তা করতে প্রশাসনিক স্তরে উদ্যোগ নেওয়াও জরুরি। সেই কাজটাই বিশ্বের ইতিহাসে প্রথম করে দেখাল নরওয়ে।
তথ্য বলছে, প্রতি বছর ৩০ হাজার স্কোয়ার মাইল এলাকার অরণ্য ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে নানা কারণে। এই কারণগুলির মধ্যে কিছু প্রাকৃতিক হলেও, বেশির ভাগই মনুষ্য নির্মিত। এই হারে যদি বৃক্ষ নিধন চলতেই থাকে, তবে মানুষ তথা জীবজগতের বেঁচে থাকা কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠবে।
এই মুহূর্তে বিশ্বের ৩১ শতাংশ অংশ জুড়ে সবুজ গাছপালা রয়েছে। সেই গাছ থেকেই জীবজগতের প্রয়োজনীয় অক্সিজেন তৈরি হয়। গাছ কেটে ফেলার ফলে সে পদ্ধতি বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। উষ্ণতা বাড়ার ফলে জলবায়ুরও বড় পরিবর্তন হচ্ছে। খরা-বন্যার মতো বড় বিপর্যয়েও দায়ী থেকে যাচ্ছে গাছপালা কমে যাওয়ার ঘটনাই।
এই সব দিক ভেবেই আইন করে গাছ কাটা বন্ধ করার প্রথমতম ধাপটি পার করেছে নরওয়ে। বাকি দেশগুলিও পারবে তো? অপেক্ষা করছে বসুন্ধরা।
আরও পড়ুন...
https://www.four.suk.1wp.in/1-lakh-kids-under-5-years-of-age-die-due-to-air-pollution-each-year-says-study/