দ্য ওয়াল ব্যুরো : সংবাদ মাধ্যমে জেএনইউ-এর প্রাক্তন ছাত্র উমর খালিদের ভাষণের ভিডিও কাটছাঁট করে প্রকাশ করা হয়েছিল। তার ভিত্তিতেই উমরের বিরুদ্ধে দিল্লি দাঙ্গায় জড়িত থাকার অভিযোগ এনেছে পুলিশ। সোমবার অতিরিক্ত দায়রা বিচারক অমিতাভ রাওয়াতের কাছে এমনই বললেন উমরের আইনজীবী ত্রিদীপ পায়েস। তাঁর বক্তব্য, দিল্লি দাঙ্গার পরে পুলিশ ৭১৫ টি এফআইআর করেছে। কিন্তু উমরের নাম একটা এফআইআরেও নেই। যাঁরা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরোধিতা করেছিলেন, বেছে বেছে তাঁদেরই ইউএপিএ-তে ফাঁসানো হয়েছে।
ত্রিদীপ পায়েস দাবি করেন, ওই মামলায় সাক্ষীরা পুলিশ ও বিচারকের সামনে স্ববিরোধী বক্তব্য পেশ করেছেন। তাঁর কথায়, "উমরের বিরুদ্ধে চার্জশিট সম্পূর্ণ মিথ্যা। বেছে বেছে কয়েকজন সাক্ষীকে আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে নানা কথা বলানো হয়েছে। এফআইআরে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তার কোনও ভিত্তি নেই।"
পায়েসের বক্তব্য, মহারাষ্ট্রের অমরাবতীতে উমর যে ভাষণ দিয়েছিলেন, তা কাটছাঁট করে ইউটিউবে আপলোড করে একটি সংবাদ মাধ্যম। তারা পুরো ভাষণটি আপলোড করেনি কেন? আইনজীবী বলেন, যে সাংবাদিকরা ওই ভাষণ আপলোড করেছিলেন, তাঁরা নিজেরা কোথাও যান না। কারও ভাষণ না শুনেই তা আপলোড করে দেন।
পায়েসের দাবি, উমর কখনই রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য পেশ করেননি। তিনি যে সভায় ভাষণ দিয়েছিলেন, সেখানে উপস্থিত ছিলেন কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস অফিসার। উমর ভাষণে মহাত্মা গান্ধীর কথা বলেছিলেন। তিনি কাউকে হিংসায় প্ররোচনা দেননি।
গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে উত্তরপূর্ব দিল্লির সাম্প্রদায়িক হানাহানিতে অন্তত ৫৩ জন নিহত হন, জখম হন প্রায় ২০০ জন। দাঙ্গার মামলায় গ্রেফতার হন উমর। তাঁর মুক্তির দাবি তোলেন মিরা নায়ার, নাওম চমস্কি- সহ ২০০ জনের বেশি সাহিত্যিক, পরিচালক, শিক্ষাবিদ ও সমাজের অন্যান্য বিশিষ্টজন। এই সংক্রান্ত একটি বিবৃতিও জারি করেন তাঁরা। তাতে সই করেন সাহিত্যিক অমিতাভ ঘোষ, সলমন রুশদি, অরুন্ধতী রায়, অভিনেত্রী রত্না পাঠক শাহ, সাংবাদিক পি সাইনাথ প্রমুখ।
বিবৃতিতে লেখা হয়, “সিএএ এবং এনআরসির মতো আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার জন্য উমর খালিদ ও অন্যান্য ব্যক্তি যাঁদের মিথ্যে মামলায় অভিযুক্ত করে জেলে ঢোকানো হয়েছে, ভারত সরকারের কাছে তাঁদের মুক্তির দাবি জানাচ্ছি আমরা। দিল্লির সংঘর্ষ কেন হয়েছিল, বা তাতে কাদের হাত ছিল সেই ব্যাপারে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি দিল্লি পুলিশের কাছে, যাঁরা দেশের সংবিধান মেনে চলার শপথ নিয়েছেন।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দিল্লিতে সংঘর্ষে যুক্ত ইন্ধন যোগানোর অভিযোগে ২০২০ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার হওয়া সাহসী ও তরুণ শিক্ষাবিদ ও ছাত্রনেতা উমর খালিদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি আমরা। নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে সবার সমান নাগরিকত্বের দাবি তুলে উমর খালিদ বুঝিয়ে দিয়েছিলেন দেশের প্রতি তাঁর কর্তব্য ঠিক কী। এই পদক্ষেপ থেকে তাঁর শিক্ষারও পরিচয় পাওয়া যায়।”
গত এপ্রিলের মাঝামাঝি জামিন পান উমর খালিদ।