
শেষ আপডেট: 25 October 2023 18:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: দুর্গার বিসর্জনের পরেই আসেন ভান্ডানী। শেষ হয়েও পুজো শেষ হয় না তিস্তা পারে। একদিনের পুজো, সেই রাতেই বিসর্জন। তবুও দুর্গা বিদায়ের বিষাদ যেন বিলম্বিত হয় কিছুটা। প্রথা মেনেই একাদশীতে দেবী দুর্গার আরেক রূপ ভান্ডানী পুজোয় মাতলেন জলপাইগুড়ির তিস্তাপারের ভান্ডানী গ্রামের মানুষ।
কথিত আছে, বৈকুন্ঠপুর রাজবাড়ি ছেড়ে দেবী দুর্গা তাঁর সন্তানদের নিয়ে কৈলাশে ফিরছিলেন। সাধারণ এক নারীর রূপ ধরে বৈকুন্ঠপুরের ঘন জঙ্গলের পথ ধরেছিলেন তিনি। সেই জঙ্গলে পথ হারিয়ে গিয়ে কান্নাকাটি শুরু করেন। সেইসময় স্থানীয় এক রাখাল গরু চড়িয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। তিনি ওই নারীকে দেখতে পান। রাতে নিজের বাড়িতে দেবীকে আশ্রয় দেন। মাঝরাতে দেবী নিজের রূপে আবির্ভূত হন। রাখালকে বলেন, “তুই আমাকে আশ্রয় দিয়েছিস। বল আমার থেকে কী বর চাস।” তখন রাখাল দেবীকে জানান, এই জঙ্গলে তাঁরা চাষ করতে পারেন না। তাই তাদের খাবারের খুব কষ্ট। ওই এলাকাকে শস্য শ্যামল করে দেওয়ার বর চান তিনি। দেবীর বরে পরদিন সকাল থেকে তিস্তা অপর পার শস্য শ্যামল হয়ে ওঠে।
প্রায় পাঁচশো বছরেরও বেশি সময় ধরে একাদশীর দিনে ভান্ডানী রূপে দেবী দুর্গার পুজো হয়ে আসছে। দেবী এখানে মহিষাসুরমর্দিনী নন। সাধারন নারীরূপেই পুজো হয় তাঁর। তাই এখানে দেবী দুর্গা দ্বিভুজা। সিংহ নয়, বাঘের উপর অধিষ্ঠিতা তিনি। দেবীর সঙ্গে লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ থাকলেও অসুর অনুপস্থিত। পুজোর দিন ময়নাগুড়ির ভান্ডানী এলাকায় লাখো মানুষের ঢল নামে। রাতভর চলে পুজো। সঙ্গে মেলা। পুজো কমিটির সহ-সভাপতি দীনেশ রায় জানান, মল্লিক পরিবারের হাত ধরে পাঁচশো বছর আগে এই পুজো শুরু হয়। পুজো শুরু করেছিলেন বড়ুয়া মল্লিক। বর্তমানে তাঁর পঞ্চম পুরুষ রয়েছে।