
শেষ আপডেট: 23 July 2023 07:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মণিপুরে মাসকয়েক আগে দুই মহিলাকে নগ্ন করে ঘোরানোর অভিযোগ উঠেছে। শনিবার মালদহেও দুই মহিলাকে চোর সন্দেহে বিবস্ত্র করে ঘুরিয়েছে গ্রামবাসীরা। এবার পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটে (Mangalkot) এক বধূকে (Woman) বাড়ি থেকে হাত-পা বেঁধে তুলে নিয়ে গিয়ে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার অভিযোগ উঠল খুড়তুতো ভাসুরপো ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে। প্রতিটি ঘটনা একই না হলেও মহিলাদের উপর অত্যাচার যে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে, এই প্রত্যেকটি বিষয় সেটাই প্রমাণ করে দিচ্ছে। মঙ্গলকোটের কুড়ুম্বা গ্রামের এই ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে গোটা এলাকায়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, সম্পত্তি নিয়ে বিবাদকে কেন্দ্র করেই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। জানা গিয়েছে, বধূর চোখ-মুখ কাপড় দিয়ে বেঁধে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। শনিবার সকালে এই অমানবিক ঘটনার খবর সামনে আসতে স্তম্ভিত হয়ে যান পুলিশ অফিসাররা। অগ্নিদগ্ধ বধূকে প্রতিবেশী ও তাঁর বাবার বাড়ির লোকজন উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করেন। বর্তমানে ওখানেই তিনি মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। খবর পেয়েই মঙ্গলকোট থানার আইসি-সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়।
লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বধূর ভাসুরপো আশুতোষ গড়াই ও তাঁর ছেলে পূর্ণচন্দ্র গড়াইকে গ্রেফতার করেছে। অগ্নিদগ্ধ বধূর নাম বীথিকা গড়াই (৪৩)। বাড়ি কুড়ুম্বা গ্রামের পুরনো বাজার এলাকায়। কাটোয়ার এসডিপিও কৌশিক বসাক বলেন, “আমরা এই ঘটনা নিয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।” দোষীদের কঠোর সাজা দাবি করেছেন আক্রান্ত মহিলার ছেলে ও বাপেরবাড়ির লোকজন। খবর পেয়ে বাড়ি ফিরেছেন বীথিকা গড়াইয়ের স্বামীও।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শনিবার ভোর পাঁচটা নাগাদ বীথিকাদেবী ঘুম থেকে উঠে সবে বাইরে বেরিয়েছিলেন। ঘরে তাঁর ছেলে সুরেশ গড়াই ঘুমোচ্ছিলেন। মহিলার স্বামী নবকুমার গড়াই কর্মসূত্রে বারাসতে থাকেন। এমন সময় অভিযুক্ত আশুতোষ গড়াই, তাঁর স্ত্রী রীনা গড়াই ও ছেলে পূর্ণচন্দ্র গড়াই হুড়মুড়িয়ে বীথিকাদেবীর বাড়িতে ঢুকে পড়ে। এরপরেই তাঁরা মহিলার হাত-পা, চোখ-মুখ বেঁধে নিজের বাড়িতে নিয়ে যায়। এরপর সেখানেই বীথিকাদেবীকে আগুনে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে। প্রথমে আশেপাশের লোকজন বিষয়টি টের পাননি। পরে আগুনের ধোঁয়া দেখে সবাই ছুটে এসে বীথিকাদেবীকে উদ্ধার করেন। এরপর তাঁরাই হাসপাতালে নিয়ে যান।