দ্য ওয়াল ব্যুরো: সালিশি সভার 'রায়ে' আদিবাসী মহিলাকে নগ্ন করে ঘোরানো, মারধরের ঘটনায় কঠোর হল জাতীয় মহিলা কমিশন। আলিপুরদুয়ারের ঘটনাটি নিয়ে শোরগোল শুরু হওয়ায় রাজ্য পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেলকে (ডিজি) অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতারির জন্য ব্যবস্থা নিতে বলেছে কমিশন। ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমে বেরয়। সেটি তাদের নজরে পড়তেই সক্রিয় হয় তারা। ডিজিকে চিঠি পাঠায়।
৩৫ বছরের ওই আদিবাসী মহিলার বিরুদ্ধে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ তুলেছে গ্রামবাসীরা। ‘পরপুরুষের জন্য স্বামীকে ছেড়ে চলে যাওয়া’র শাস্তি হিসাবে তাঁকে নিগ্রহ করেছে তারা। গত বৃহস্পতিবার ওই মহিলা ৬ মাস বাদে স্বামীর ঘরে ফেরেন। সূত্রের খবর, গ্রামে ফিরতেই তাঁকে চেপে ধরে গ্রামবাসীরা। তাদের মদতেই গ্রামে সালিশি সভা বসে। সেখানেই স্থানীয় প্রবীণ মাতব্ববরা নিদান দেয়, স্বামীকে ছেড়ে পাশের গ্রামের এক ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়ানোর ‘শাস্তি’ পেতে হবে মহিলাকে। তাঁকে উলঙ্গ করে গ্রামে ঘোরানো, মারধর করা হয়। ঘটনার একটি ভিডিও সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। ভিডিওতে মহিলাকে বলতে শোনা যাচ্ছে, মারিয়ে না কিতনা মারিয়ে। সেটি পুলিশের গোচরে আসে রবিবার।
জানা গিয়েছে, সালিশি সভার ফতোয়ায় সাজা ভোগের পর মহিলা অসমে বাপের বাড়ি রওনা হন। তবে পুলিশ তাঁকে রবিবার রাতে ফিরিয়ে আনে। তাঁকে দিয়ে অভিযোগ দায়ের করানো হয়। ঘটনায় এফআইআর দায়ের হয়েছে। তাতে নাম থাকা তিনজন গ্রেফতার হয়েছে। আরও আটজন পলাতক।
তিনজনকে সোমবার আলিপুরদুয়ার আদালতে তোলা হয়। তাদের পুলিশি হেফাজতের রাখার নির্দেশ দেয় আদালত।
সম্প্রতি রাজ্য রাজনীতিতে হইচই শুরু হয়েছে গত ২ মে বিধানসভা ভোটের ফলে শাসক তৃণমূলের নিরঙ্কুশ জয়ের পর থেকে বিজেপি সহ বিরোধীদের ওপর লাগাতার অত্যাচারের অভিযোগ ঘিরে। সুপ্রিম কোর্টে ২ মহিলা নালিশ জানিয়েছেন, ভোটের ফল বেরনোর পর বিরোধী রাজনৈতিক দল করেন বলে তাঁদের গণধর্ষণ করা হয়েছে।