দ্য ওয়াল ব্যুরো: বন্যপ্রাণী পাচারকারীদের মোবাইল ফোনে জাল টাকা ছাপানোর যন্ত্রে টাকা ছাপানোর ছবি দেখে একেবারে অবাক হয়ে গেলেন বনদফতরের টাস্ক ফোর্সের কর্তারা। তাদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে এ জেরা করতে চায় টাস্ক ফোর্স।
২১ নভেম্বর নাগরাকাটায় থেকে জীবন্ত বনরুই (প্যাঙ্গোলিন) পাচার করার সময় বামাল পাঁচজন ভুটানি নাগরিককে গ্রেফতার করে টাস্কফোর্স। এদের মধ্যে দু’জন মূল অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে রাখে তারা, বাকি তিন জনের চোদ্দো দিনের জেল হেফাজত হয়েছে।
হেফাজতে নেওয়া দু’জন পাচারকারীকে সঙ্গে নিয়ে শুক্রবার বিকেলে জয়গাঁ এলাকায় অভিযান করে আরো দু’জনকে পাচারকারীদের সহযোগী সন্দেহে গ্রেফতার করে টাস্কফোর্স। এরা হ্যামিলটন গঞ্জের বাসিন্দা দীপক প্রধান ও জয়গাঁর বাসিন্দা দীপেন মুখিয়া।
টাস্ক ফোর্সের প্রধান সঞ্জয় দত্ত বলেন, “আমরা প্যাঙ্গোলিন পাচারের অভিযোগে হেফাজতে নেওয়া দু’জনকে সঙ্গে নিয়ে গতকাল আলিপুরদুয়ারের জয়গাঁ এলাকায় অভিযান চালাই। সেখান থেকে দীপক প্রধান ও দীপেন মুখিয়া নামে দু’জনকে গ্রেফতার করি। রাতে এদের জেরা করলে বিভিন্ন তথ্য উঠে আসে।”
সঞ্জয় দত্ত জানান, একটি ছোট যন্ত্রে টাকা ছাপানোর ছবিও তাঁরা দেখতে পান। এই যন্ত্রে নির্দিষ্ট মাপের সাদা কাগজ ঢুকিয়ে দিয়ে একটি বোতাম টিপলেই ৫০ টাকার নোট ছেপে বেরিয়ে আসছে। তবে এই ভিডিওটি কবে তোলা হয়েছে, ভারতের মধ্যে নাকি ভারতের বারইরে, সে ব্যাপারে এখনও কিছু জানতে পারেনি টাস্ক ফোর্স।
তাদের মোবাইলে অন্য ভিডিওগুলির মধ্যে রয়েছে গণ্ডারের খড়্গ নিয়ে দরদামের কথাবার্তা ও বনরুই বা প্যঙ্গোলিন নিয়ে দরদামের কথাবার্তা। আন্তর্জাতিক এই পাচারকারীদের জলপাইগুড়ি আদালতে তুলে নিজেদের হেফাজতে চাইবে টাস্ক ফোর্স।
মূলত ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক ব্যবহার করেই বন্যপ্রাণ পাচার করা হয়। অসম, বাংলাদেশ, ভুটান প্রভৃতির জায়গার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা হয় শিলিগুড়ির মাধ্যমে। মাঝেমধ্যেই এই জাতীয় সড়কে উদ্ধার হয় বন্যপ্রাণী ও তাদের দেহাংশ। বেশি সংখ্যায় উদ্ধার হয় গণ্ডারের খড়্গ, হাতির দাঁত, বোতলে ভরা তক্ষক (গেকো) প্রভৃতি।
যে সব সংস্কারের বশবর্তী হয়ে লোকে এইসব প্রাণী হত্যা করে, তাদের সচেতন করার ভার রয়েছে পরিবেশকর্মীদের উপরে। এ জন্য সরকার বহু টাকা খরচও করে। পরিবেশকর্মীরা বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার টাঙিয়ে, বক্তৃতা করে সচেতন করেন লোকজনকে। কিন্তু বাস্তবে যে তাতে কোনও কাজই হচ্ছে না, তা প্রমাণ হয়ে যাচ্ছে বন্যপ্রাণী পাচার বন্ধ না হওয়ায়। তাই পরিবেশকর্মীদের কাজের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।