দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার থেকে কালবৈশাখীর দাপটে নাজেহাল মহানগর। শনিবার সন্ধে থেকে দক্ষিণবঙ্গে শুরু হয়েছে প্রবল বৃষ্টি। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে সমতলের পাশাপাশি পাহাড়েও তাণ্ডব চালাচ্ছে মুষলধারে বৃষ্টি। সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া। এই ঝড়-বৃষ্টির দাপটে এ দিন কার্শিয়াঙের কাছে লাইনচ্যুত হলো টয় ট্রেন। অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন যাত্রীরা।
দুর্ঘটনা ঘটে এ দিন বেলা ১২টা নাগাদ। দার্জিলিং থেকে শিলিগুড়ি যাচ্ছিল টয় ট্রেনটি। কার্শিয়াঙের মহানদীর কাছে লাইনচ্যুত হয়ে যায় ট্রেনটির ইঞ্জিন-সহ একটি কামরা।
দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, দার্জিলিং থেকে দু'টি কামরা নিয়ে ডিজেল ইঞ্জিনটি শিলিগুড়ি যাচ্ছিল। কামরা দু'টিতে সাকু্ল্যে ছ'জন যাত্রী ছিলেন। মহানদীর কাছে লাইনের একটি বাঁক ঘুরতে গিয়েই বিপত্তি বাধে। রেলওয়ের ইঞ্জিনিয়াররা জানিয়েছেন, বৃষ্টির কারণে লাইন পিছল হয়ে গেছিল। সেই কারণেই বাঁকের মুখে নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেননি চালক। ইঞ্জিনটি লাইন থেকে কয়েক ফুট দূরে রাস্তায় নেমে যায়। লাইন থেকে বেরিয়ে আসে একটি কামরাও। আতঙ্কিত যাত্রীদের পরে গাড়িতে চাপিয়ে শিলিগুড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়।
রেলওয়ে সূত্রে জানানো হয়েছে, মূলত বৃষ্টির সময় পিছল হয়ে যায় টয় ট্রেনের লাইন। ইঞ্জিন ও কামরাগুলির চাকা ছোট হওয়ায় মাঝে মধ্যেই লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে। যে কারণে বৃষ্টি হলে অতি সতর্ক থাকতে হয় চালককে। বাঁকে বাঁকে লাইনের উপর বালিও ছড়ানো হয়। ট্রেনটি লাইনচ্যুত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন ইঞ্জিনিয়ার ও রেলকর্মীরা। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় ইঞ্জিন ও কামরাকে লাইনে তোলা হয়।
এ দিকে এমন ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে পর্যটকদের মধ্যে। অনেকেই টয় ট্রেনে উঠতে ভয় পাচ্ছেন।
দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের ট্রাফিকের শীর্ষ আধিকারিক, এস.কে ঘোষ বলেন, "মহানদীর কাছে ডিজেল ইঞ্জিন ও একটি কামরা লাইনচ্যুত হয়েছে। যাত্রীদের সুরক্ষিতভাবে শিলিগুড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। কেউ জখম হননি।’" তবে বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে এবং বর্ষার সময়েও যাতে ট্রেন চালানোর সময় চালকেরা অতি সতর্ক থাকেন সেই নির্দেশ দিয়েছে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। ধস প্রবণ জায়গাগুলিও পরিদর্শন করছেন রেলকর্মীরা।