দ্য ওয়াল ব্যুরো: পরিযায়ী শ্রমিক ইস্যুতে ফের সমালোচনার মুখে রাজ্য সরকার। এবার সিপিএমের শ্রমিক সংগঠন সিটুর দায়ের করা একটি মামলার শুনানিতে বম্বে হাইকোর্ট তীব্র সমালোচনা করল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের। বম্বে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি অনুজা প্রভুদেশাইয়ের বেঞ্চ পষ্টাপষ্টি মন্তব্য করেছে, পরিযায়ী শ্রমিকদের বিষয় ঠিক মতো সামলাতে পারেনি পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
সিটু অনুমোদিত মুম্বইয়ের একটি শ্রমিক সংগঠন জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিল বম্বে হাইকোর্টে। মঙ্গলবার সেই মামলারই শুনানি ছিল প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে। সেই শুনানিতে প্রধান বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত মন্তব্য করেন, “পরিযায়ী শ্রমিকদের ইস্যু সঠিক ভাবে সামলাতে পারেনি পশ্চিমবঙ্গ সরকার। একটা সময় পর্যন্ত তো পরিযায়ী শ্রমিকদের ট্রেন বাংলায় ঢোকার অনুমতিই পায়নি।”
মামলাকারীদের আইনজীবী হিসেবে এদিন সওয়াল করেন বর্ষীয়ান আইনজীবী গায়ত্রী সিং। তাঁকে উদ্দেশ করে প্রধান বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত বলেন, “আপনি জানেন পশ্চিমবঙ্গের এখন কী অবস্থা? আমরা এই সংকটের সময়ে কারও বিরুদ্ধে তির্যক কোনও মন্তব্য বা সমালোচনা করতে চাই না। কিন্তু এটা বলতেই হচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার পরিযায়ী শ্রমিকদের বিষয়গুলি ঠিক মতো সামলাতে পারেনি।”
শুনানির মধ্যেই প্রধান বিচারপতি উদাহরণ দিয়ে বলেন, “রত্নগিরি জেলায় এক জায়গায় ৩০ জন শ্রমিক আটকে পড়ে ছিলেন। তাঁরা সম্পূর্ণ নিজেদের খরচে বাস ভাড়া করে পশ্চিমবঙ্গে ফিরেছেন।” তিনি আরও বলেন, “কোনও রাজ্য সরকারই পরিযায়ী শ্রমিকদের সে ভাবে অর্থ সাহায্য করেনি। অধিকাংশ পরিযায়ী শ্রমিককেই গ্যাঁটের পয়সা খরচ করে বাড়ি ফিরতে হয়েছে।”
মামলাকারীদের তরফে আদালতে আর্জি জানানো হয়, এখনও বাণিজ্যনগরীতে ৫৬ হাজার ভিন রাজ্যের শ্রমিক আটকে পড়ে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই বাংলার। তা ছাড়া দেশের অন্যান্য রাজের শ্রমিকরাও রয়েছেন। আর্জি জানিয়ে ট্রেড ইউনিয়নের তরফে বলা হয়, মহারাষ্ট্র সরকার নাম রেজিস্ট্রেশনের পদ্ধতি আরও সহজ-সরল করুক। না হলে শ্রমিকদের বিস্তর অসুবিধার মধ্যে পড়তে হচ্ছে।
যদিও মহারাষ্ট্র সরকারের তরফে অ্যাডভোকেট জেনারেল আশুতোষ কুম্ভাকোনি বলেন, “কোনও রাজ্য সরকারই এখন আর পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরানোর বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। তা ছাড়া একই ধরনের একটি মামলা সুপ্রিম কোর্টেও বকেয়া রয়েছে।” পাল্টা মুম্বই হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ অ্যাডভোকেট জেনারেলকে বলে, “গত ৯ জুলাই তারিখের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট বলেছিল, পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরানোর বিষয়ে মহারাষ্ট্র সরকারের গা ছাড়া ভাব রয়েছে। একথা আপনি অস্বীকার করতে পারেন না।” সুপ্রিম কোর্টে ওই মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারিত হয়েছে ১৭ জুলাই। তাই মুম্বই হাইকোর্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন অগস্টের প্রথম সপ্তাহে নির্ধারিত করেছে।
পরিযায়ী শ্রমিকদের ইস্যুতে রাজ্য সরকারের সমালোচনায় মুখর হয়েছিল বাম-কংগ্রেস-বিজেপি। শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনকে করোনা এক্সপ্রেস বলা নিয়েও বিস্তর সমালোচনা হয়েছিল বাংলায়। এবার সেই একই ইস্যুতে নবান্নের সমালোচনা করল বম্বে হাইকোর্ট।