বিশ্বভারতীতে ভর্তি বন্ধ করল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, উপাচার্য ঘেরাও নিয়ে উত্তাল শান্তিনিকেতন
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তাপ বাড়ছে বিশ্বভারতীতে (Visva Bharati)। উপাচার্যকে লাগাতার ঘেরাও করে রাখার কারণ দেখিয়ে ভর্তি প্রক্রিয়াই বন্ধ করে দিল বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। যা আগুনে ঘি ঢালবে বলেই মনে করছেন অনেকে।
সোমবার দফায় দফায় উত্তেজন
শেষ আপডেট: 30 August 2021 08:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তাপ বাড়ছে বিশ্বভারতীতে (Visva Bharati)। উপাচার্যকে লাগাতার ঘেরাও করে রাখার কারণ দেখিয়ে ভর্তি প্রক্রিয়াই বন্ধ করে দিল বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। যা আগুনে ঘি ঢালবে বলেই মনে করছেন অনেকে।
সোমবার দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়াল শান্তিনিকেতনে (Shantiniketan)। এক দিকে উপাচার্য (Vice Chancellor) বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে ঘুরল নাগরিক মিছিল অন্যদিকে ভিসি বাংলোর সামনে ব্যানার ঝুলল ‘নো পাসারন।’ তা নিয়ে পড়ুয়াদের সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীদের ধস্তাধস্তিতে আরএক প্রস্থ উত্তেজনা ছড়াল। সব মিলিয়ে সরগরম বিশ্বভারতী।
সোমবার ছাত্র ঐক্য মঞ্চের পক্ষ থেকে উপাচার্য, রেজিস্ট্রার-সহ অন্যান্যদের এফআইআর দায়ের করা হল শান্তিনিকেতন থানায়। সেই অভিযোগপত্রে ছাত্র ঐক্য মঞ্চের পক্ষে বলা হয়েছে, স্মারকলিপি দিতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েক জন আধিকারিক ছাত্রদের জোর করে বের করে দেয়। এবং গাড়ির চালককে নির্দেশ দেয় ছাত্রদের উপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দেওয়ার জন্য। এ নিয়ে এর আগে দুই ছাত্র খুনের চেষ্টার অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে ওই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারির দাবি জানিয়েছে ছাত্র মঞ্চ।
তিন পড়ুয়াকে মাওবাদী তকমা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়য় থেকে সাসপেন্ড করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ। গত ন’মাস ধরে তাঁরা সাসপেন্ড হয়ে রয়েছেন। তাঁদের ফেরানোর দাবিতেই আন্দোলন চালাচ্ছেন পড়ুয়ারা।
ঘটনা হচ্ছে, এই পরিস্থিতি যখন চলছে তখন নির্বিকার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। মুখ খুলছেন না উপচার্যও। যা নিয়ে আরও ক্ষুব্ধ পড়ুয়ারা। পরিস্থিতি যখন এমনই তখন সোমবার জানা গিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নির্দেশ দিয়েছে, যে অধ্যাপক, কর্মীরা ছুটিতে রয়েছেন তাঁরা যেন জরুরি ভিত্তিতে মঙ্গলবার কাজে যোগ দেন। মঙ্গলবার আবার বিশ্বভারতীতে মিছিলের ডাক দিয়েছে বাম ছাত্র সংগঠন এসএফআই।
এমনিতেই বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় রয়েছে। অভিযোগ, আরএসএস-এর ক্যাডার হিসেবে ভূমিকা পালন করছেন তিনি। এর আগেও বহুবার তাঁর নাম বিতর্কে জড়িয়েছে। পড়ুয়া, আশ্রমিকদের অভিযোগ রবি ঠাকুরের বিশ্বভারতীকে ফ্যাসিবাদের কারাগার বানিয়েছেন এই উপাচার্য। যিনি বিশ্বভারতীতে বসে নাগপুরের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, ছাত্র আন্দোলন যে ভাবে বিশ্বভারতীতে ক্রমশ জমাট বাঁধছে এবং উপাচার্য সহ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যে ভাবে বিষয়টাকে জেদাজেদির জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে তাতে করে পরবর্তীতে আরও বড় ঘটনা ঘটলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'