
শেষ আপডেট: 16 September 2022 11:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধুমধাম করে বিশ্বকর্মা পুজো এখন অতীত। শুধু পুজোর জন্যই পুজো। আগে বিশ্বকর্মা পুজোর (Vishwakarma Puja) সপ্তাহখানেক আগে থেকেই শুরু হয়ে যেত বিশাল আয়োজন। কিন্তু চলতি বছর কোনও প্রস্তুতি নেই। দেশ তথা রাজ্যের পাটশিল্পের কেন্দ্রস্থল ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে এবার শুধুই পুজো হবে। নেই কোনও জৌলুস।
প্রতিবছরই বিশ্বকর্মার (Vishwakarma Puja) আরাধনায় নতুন ছন্দে সেজে উঠত ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল। বাহারি আলোকসজ্জা ও রকমারি মন্ডপসজ্জা দেখা যেত জুটমিল থেকে ছোট বড় মাঝারি কলকারখানায়। থাকত বিভিন্ন বাজনা ৷ কিন্তু সে সব এখন অতীত। বন্ধ শিল্পাঞ্চলের একাধিক কলকারখানা ৷ তাই একসময় যে জায়গা উৎসবের আনন্দে মুখরিত হয়ে থাকত, পুজোর ঠিক আগের দিন, শুক্রবারও সেই এলাকা থমথম করছে।
প্রতিমা ব্যবসায়ীরা বিশ্বকর্মা প্রতিমার পসরা সাজিয়ে বসলেও, ক্রেতার সংখ্যা হাতে গোনা। কল–কারখানা গুলিতে তৈরি হয়েছে একচালার প্যান্ডেল। আজ কোথাও প্রতিমা এসেছে, কোথাও আবার আসবে কাল। কোন বাড়তি ছুটির ব্যবস্থাও নেই জুটমিলগুলিতে। শ্রমজীবীদের মান রাখতেই যেন এবছর দায়সারা পুজো সেখানে।
ব্যারাকপুরের এক বাসিন্দা বললেন, ‘এমনিতেই রাজ্যের কল–কারখানার পরিস্থিতি খারাপ। তারওপর করোনা এসে অর্থনীতি দুর্বল করে দিয়েছে। জুটমিলে কোনও নজর নেই কেন্দ্র সরকারের। যেকারণে পুজোর কোনও ধুমধাম নেই। অনেক মিলে নিয়মিত বেতন দেওয়া হচ্ছে না। বহু জুটমিল বন্ধ।’
জুটমিলের এক কর্মী বললেন, ‘এবছরও পুজোর প্যান্ডেল হয়েছে। কিন্তু এখনও ঠাকুর আসেনি। এবছর ধুমধাম অনেক কম। পুজোর জন্য যন্ত্রপাতি বন্ধ থাকবে। তারপর ফের ডিউটি শুরু হবে। সারাদিন ছুটি নেই।’
ব্যারাকপুরের পাশাপাশি কলকাতার চিত্রটাও মোটের ওপর একই। স্বর্ণকার, কাঠমিস্ত্রি, সাইকেল মিস্ত্রি থেকে গাড়ি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত সকলেই পুজো সারছেন। কিন্তু, সে পুজো জৌলুসহীন। গ্যারাজ, রেডিও টিভি মেরামতির দোকানগুলোতে বছর পাঁচেক আগেও বিশ্বকর্মা পুজো ঘিরে একটা আলাদা উন্মাদনা চোখে পড়ত। সেই জাঁক বহুদিন আগেই কমে গিয়েছে। অনেকে বলছেন, ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই দায়, জাঁকজমক করবেন কী ভাবে। অতএব এবার স্রেফ পুজোর জন্যই পুজো। আনন্দ নয়, বিশ্বকর্মার জন্য অনাড়ম্বড়ের আসন পাতা হয়েছে রাজ্যের প্রায় সর্বত্রই।
দুর্গা নয়, অর্ধনারীশ্বর! রূপান্তরকামীদের অভিনব পুজো শহর কলকাতায়