দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাজুড়েই জ্বরের প্রকোপ বাড়ছে। উত্তরবঙ্গের পরে দক্ষিণেও হানা দিয়েছে ভাইরাল জ্বর। সেই সঙ্গে স্ক্রাব টাইফাস, রেসপিরেটারি সিনসিটিয়াল ভাইরাসের প্রকোপও বাড়ছে। একের পর এক জেলা থেকে শিশুদের অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর মিলছে। বীরভূমেও জ্বরের প্রভাব মারাত্মক। গত এক সপ্তাহ ধরে বোলপুর মহকুমা ও সিউড়ি হাসপাতালে জ্বর, শ্বাসের সমস্যা নিয়ে বাচ্চাদের নিয়ে আসছেন অভিভাবকেরা। সূত্রের খবর, বীরভূমে জ্বরে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা তিনশো ছাড়িয়ে গেছে।
জেলা স্বাস্থ্য দফতর জানাচ্ছে, ভাইরাল জ্বরেই আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। ভয়ের তেমন কোনও কারণ এখনও ঘটেনি। বাচ্চাদের দুই থেকে তিন চিকিৎসার পরেই ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।
বোলপুর মহকুমা হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে, সিজন চেঞ্জের কারণে প্রতি বছরই জ্বরের প্রকোপ বাড়ে। এ বছর আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা বেশি। তবে এখনও অবধি শিশুদের শরীরে কোনও অস্বাভাবিকতা দেখা যায়নি।
জ্বর ও শ্বাসকষ্টজনিত সংক্রমণের মোকাবিলা করতে ইতিমধ্যেই 'স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর' প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্যভবন। কোন জেলায় শিশুরা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে, সংক্রমণের হার কতটা বেশি, জেলার হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির পরিস্থিতি কেমন সব খতিয়ে দেখতে রাজ্য সরকার এর মধ্যেই একটি কমিটি তৈরি করেছে। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ, মাইক্রোবায়োলজিস্ট, পালমোনোলজিস্ট, কমিউনিটি মেডিসিন, সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে সেই কমিটি তৈরি হয়েছে। এই কমিটির বিশেষজ্ঞদের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই শিশুদের জন্য ওই গাইডলাইন তথা 'স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর' প্রকাশ করা হয়েছে।
কী কী উপসর্গ দেখলে সতর্ক হবেন--
১) বাচ্চাদের জ্বর ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা তিন দিনের বেশি থাকলেই হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।
২) সর্দি-কাশি, ক্রমাগত নাক দিয়ে জল পড়া, গলা শুকিয়ে যাওয়া, গলায় ব্যথা হলে দেরি করা ঠিক হবে না।
৩) পেট খারাপ, ডায়েরিয়া, ঘন ঘন বমি, সারা গায়ে ব্যথা।
৪) দ্রুত শ্বাস নেওয়া, শ্বাসপ্রশ্বাসের সময় বুক ধড়ফড় করা।
৫) পরিবারে রেসপিরেটারি সিনড্রোমের পূর্ব ইতিহাস থাকলে সতর্ক হতে হবে।
৬) বাচ্চাদের স্বাভাবিক খাওয়াদাওয়া ৫০ শতাংশ কমে গেলে সতর্ক হতে হবে।
৭) প্রস্রাব দিনে পাঁচ বারের কম হচ্ছে কিনা খেয়াল রাখতে হবে।