
শেষ আপডেট: 20 January 2020 09:56
আতঙ্কিত গ্রামবাসীরা জড়ো হয়েছেন গ্রামের মাঠের কাছে[/caption]
পালা করে রাত পাহারা দেওয়া শুরু করেছেন গ্রামবাসীরা। প্রতিদিন সন্ধ্যা হতেই তাঁরা পাহারা দেওয়া শুরু করে দিচ্ছেন লাঠি-টর্চ প্রভৃতি নিয়ে।
ফুলিয়ার যেখানে এই আতঙ্ক দেখা গেছে সেই এলাকাটি মূলত তন্তুজীবী পেশার লোকজনের বাস। সকাল থেকে সন্ধ্যার মধ্যেই বাড়ির বাইরের সব কাজকর্ম সেরে ফেলছেন তাঁরা। সন্ধ্যা নামার পর আর কেউ বাড়ি থেকে বের হতে সাহস পাচ্ছেন না। গত ছ’-সাত দিন ধরে সেই অজানা জন্তুর চিৎকারে গ্রামের লোকজন ভীষণ ভাবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
সন্ধ্যা নামতেই এলাকা শুনসান। কোনও শিশুকে কোনও ভাবেই বাড়ি থেকে বের হতে দিচ্ছেন না কেউ। প্রায় রোজই ফাঁকা মাঠের কোনও অংশ থেকে কান্নার আওয়াজ ভেসে আসছে। গ্রামের কেউ কেউ আবার সেই আওয়াজ মোবাইল ফোনে রেকর্ড করেছেন।
চিৎকার শুনলেও অন্ধকার গাঢ় থাকায় প্রাণীটিকে দেখা যাচ্ছে না। শব্দ অনুসরণ করে গেলেও কোনও কিছুর দেখা মিলছে না।
খবর দেওয়া হয়েছে শান্তিপুর থানা ও বন দফতরে। এখনও বন দফতর কোনও প্রাণীর সন্ধান পায়নি তবে মাঠের কোথাও কোথাও কুকুর ও বিড়ালের বাচ্চার হাড়গোড় পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিদিন সন্ধ্যায় মাঠের মধ্যে আগুন জ্বালিয়ে রাখছেন। দলবেঁধে অনেকে আবার লাঠি হাতে টর্চ জ্বেলে সমস্ত গ্রাম ঘুরে দেখছেন। সন্ধ্যা হোক বা গভীর রাত, আওয়াজ পেলেই গ্রামের মানুষজন বেরিয়ে পড়ছেন লাঠি হাতে। সকলেই চাইছেন জন্তুটির দেখা পেতে। বন দফতর জানিয়ে দিয়েছে, জন্তুটির দেখা পেলে যেন তাদের খবর দেওয়া হয়।
চটকাতলার বাসিন্দা মমতা বৈরাগী বলেন, “মাঠের ধারে দীর্ঘদিন বসবাস করছি। শিয়াল-কুকুর সবার ডাক শুনেছি কিন্তু এই ডাক যথেষ্টই আতঙ্ক বাড়িয়েছে আমাদের মনে। সন্ধ্যা হলেই ঘরে ঢুকে যাই আবার সকালবেলায় ঘর থেকে বের হই।”
ফুলিয়া চটকাতলা এলাকার মানুষজন এখন আতঙ্কিত।