
উদয়ন গুহ ও নিশীথ প্রামানিক
শেষ আপডেট: 22 November 2024 21:19
মানুষের ভালর জন্য লড়াইতে নেমে যদি তাঁকে গুন্ডা হিসেবে পরিচিত হতে হয়, তবে তাতে তাঁর কোনও আপত্তি নেই। বরং এমন পরিচয়ে গর্বিত বোধ করবেন তিনি। পরিষ্কার ভাষায় এমনটাই জানিয়ে দিলেন দিনহাটার তৃণমূল বিধায়ক, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ।
এই সেদিনও কোচবিহার মানেই ছিল দুই নেতার দ্বৈরথ। একদিকে প্রাক্তন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ অধিকারী। অন্যদিকে রাজ্যের মন্ত্রী উদয়ন গুহ। কার দখলে থাকবে কোচবিহার, তা নিয়ে দুই নেতার লাগাতার সংঘাত ও অনুগামীদের সংঘর্ষের স্মৃতি এখনও টাটকা। কিন্ত ২০২৪ এর লোকসভা ভোটে কোচবিহার আসনে এবার প্রায় ৪০ হাজার ভোটে নিশীথকে হারিয়ে জয়ী হন তৃণমূলের মাস্টারমশাই প্রার্থী জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া। তারপর থেকেই কোচবিহারের রাজনীতির অঙ্গনে আর সেভাবে দেখা মেলেনি নিশীথের।
৪ জুন ফল প্রকাশের দিন তৃণমূল নেত্রী বলেছিলেন, "ছোট হোম মিনিস্টারকে হারিয়ে দিয়েছেন কোচবিহারের মানুষ। আগামীদিনে বাকি উত্তরবঙ্গেও মানুষ ওদের মেরুদণ্ড ভেঙে দেবে।" কোচবিহার আসনে জয়ের জন্য উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহর দরাজ প্রশংসাও করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমন আবহেই উদয়ন গুহর মুখোমুখি হয়েছিলেন দ্য ওয়ালের প্রতিনিধি। কোনও মন্ত্রে কোচবিহারের রাজনীতিতে নিশীথকে অপ্রাসঙ্গিক করলেন মূল প্রশ্ন ছিল সেটাই। কথার পিঠে উঠে এসেছে আরও অনেক কথা।
উদয়নবাবু বললেন, "ব্যক্তি উদয়ন গুহর এ ব্যাপারে কোনও কৃতিত্ব নেই। দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করে জয়ী হয়েছে কোচবিহার আসনে। আসলে প্রাক্তন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কোচবিহারে বিশেষত দিনহাটায় বোমা-বন্দুকের রাজনীতি আমদানি করেছিলেন নিজের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে। আর মানুষের কাছে আমাদের অঙ্গীকার ছিল এই সংস্কৃতি সরিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার। আমরা সেটা পেরেছি। লোকসভা ভোটের পর থেকে আর কোনও অশান্তি দেখেননি জেলার মানুষ। সাধারণ মানুষ এটা চেয়েছেন বলেই আমরা এটা করতে পেরেছি।"
নিশীথ প্রামাণিকের পক্ষে কি আর ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব? উদয়নবাবুর জবাব, "ও যদি নিজে নিজেকে সংশোধন করে নেয়, যদি মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানুষের কাজ করে, মানুষের জন্য ভাবে, তাহলে ঘুরে দাঁড়ানো অসম্ভব নয়। কারণ রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই।" তবে একই সঙ্গে এ কথাও মনে করিয়ে দিলেন,"ও ভোটে জিতেই মানুষের পাশে থাকেনি কখনও। হারার পরে মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাইবে, এমন সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ ভোটে হারার পর একেবারে ডুমুরের ফুল হয়ে গেছে। এমন চললে মানুষ ওকে আবার বুকে টেনে নেবে, এমন সম্ভাবনা খুবই কম।"
নিশীথকে রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবেও মানতে নারাজ উদয়ন। তাঁর কথায়, "রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মানে তো রাস্তায় নামবে, মিছিল করবে, সে সব ওর নেই। ওর একটু ফুলবাবু ভাব, ছোট শহরে রাজনীতি করতে হলে যে গ্রাম্যভাব দরকার সেটা ওর নেই। বরং দিল্লি দিল্লি ভাব। ও বরং বোমা বন্দুক আমদানি করে সাময়িকভাবে দিনহাটায় একটা জায়গা করে নিয়েছিল। বিশ্ব ইতিহাসে এর যা পরিণতি হয়, নিশীথের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। কোনও দিনই খুব গুরুত্ব দেওয়ার মতো মনে হয়নি ওকে।"
কে বেশি গুন্ডা, নিশীথ না তিনি? উদয়নের জবাব, "আমি তো জীবনে কাউকে কোনও দিন চড়ও মারিনি, গুলি বন্দুক তো দূরের ব্যাপার। কোনও গরীব মানুষের উপর অত্যাচার হলে, অন্যায় হলে আমি প্রতিবাদ করব। আমার দুটো হাঁটু যতদিন সচল থাকবে, আমি অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করবই। তাতে যদি কেউ মনে করে আমি গুন্ডা। হ্যাঁ তাহলে আমি গুন্ডাই।"