
শেষ আপডেট: 22 July 2019 18:30
মহানন্দা নদীকে নিয়ে সেচ দফতরের মহানন্দা ব্যারাজ ডিভিশন, ক্যানাল রয়েছে। জল ব্যারাজের মাধ্যমে বাংলাদেশের দিকে যায়। ব্যারেজের পিছনের অংশে প্রায় ১০ স্কোয়্যার কিলোমিটার জুড়ে স্থায়ী জলাশয় তৈরি হয়েছে। এই এলাকাতেই পাখিরা আসে। সারা বছর দেশি-বিদেশি নানা পাখির ভিড় লেগেই থাকে। শীতের ছোঁয়া পেলে শতাধিক পরিযায়ী ভিড় করতে শুরু করেছ ব্যারাজে। রুডি শেল্ড ডাক থেকে নর্থান ল্যাপ উইং, কমন মুরহেন, পার্পেল সোয়াম্পহেন বা ওসপ্রের মতো সুদূর মানস সরোবর, ইরান বা ইউরোপ থেকে পাখি এসে পৌঁছয়। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড থেকেও পাখিরা উড়ে আসে ফুলবাড়িতে। পরিযায়ীদের আনাগোনা দেখতে তাই পর্যটকেরও ঢল নামে এখানে।
অপ্টোপিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সভাপতি দিপজ্যোতি চক্রবর্তী জানিয়েছেন, গত দু’বছরের সার্ভেতে দেখা গেছে, পরিযায়ী পাখিদের সংখ্যা আশঙ্কাজনক ভাবে কমেছে ফুলবাড়িতে। গাছের সংখ্যাও কমে গেছে বিপজ্জনকভাবে। একটা সময় এখানে পিকনিক করতে ভিড় জমাতে পর্যটকরা। ফলে ব্যারাজের জলে, আশপাশে ডাঁই হয়ে জমে থাকত প্লাস্টিক-সহ আবর্জনা, থার্মোকলের থালা-সহ নানা রকম বর্জ্য পদার্থ। ক্রমশ বাড়তে থাকা দূষণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যারাজের জলে সুষ্ঠু ভাবে বেঁচে থাকতে পক্ষীকূলকে কার্যত প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হত কচুরিপানা ও আবর্জনার সঙ্গে। পিকনিকের দাপট এখন বন্ধ হয়েছে। তবে প্লাস্টিক দূষণ থামেনি। নতুন গাছ লাগানোর ভাবনাচিন্তা হলেও সেটা কার্যকরী করা হয়নি। নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে এবং দূষণের জেরে তাই পরিযায়ীরাও ফুলবাড়ি ঠিকানা ভুলে গেছে।
সভাপতির কথায়, ‘‘আমরা চেয়েছিলাম পাখিদের আকর্ষণ করতে ফলের গাছই বেশি লাগানো হবে। এ দিন অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তীর উপস্থিতিতে প্রায় ৪০০-৫০০টি গাছের চারা লাগানো হয়েছে। স্থানীয় ক্লাবগুলিও সাহায্য করেছে।’’ তিনি জানান, বৃক্ষ দিবস উপলক্ষে বছরে শুধু একদিন নয়, সারা বছরই গাছ লাগানোর কর্মসূচী নেওয়া হয়েছে। সবুজে ভরে উঠুক ফুলবাড়ি। আবার ফিরে আসুক পরিযায়ীরা।