"আজ আমার মেয়ের উপর হামলা হয়েছে, কাল হয়তো আমার ওপর হবে।"-- এমনটাই বললেন জেএনইউয়ের ছাত্র সংসদের প্রেসিডেন্ট ঐশী ঘোষের বাবা দেবাশিস ঘোষ। রবিবারই ক্যাম্পাসজুড়ে চলা তাণ্ডবে দুষ্কৃতীদের হামলায় মাথা ফেটেছে ঐশীর। একাধিক সেলাই পড়েছে মাথায়। ভেঙে গিয়েছে হাতও। এই অবস্থায় তাঁর বাবা জানালেন, দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিই উদ্বেগজনক। যে কেউ মার খেতে পারে যে কোনও সময়।
চুপ করে থাকেননি ঐশীর বৃদ্ধা দিদিমা শান্তি সিনহাও। ঐশীর মার খাওয়ার ঘটনায় অত্যন্ত কষ্ট পেলেও, নাতনির লড়াইকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন তিনি। তিনি
বলেন, "অত্যন্ত দৃঢ় মনোভাব আমার নাতনির। ও মার খেলেও লড়াই করে যাবে। আমরা জানি, ও সফল হবেই।"
ঐশীর বাবা আরও বলেন, "আমার মেয়ে বামপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত৷ বর্তমানে সব জায়গায় বামপন্থীদের রোখার চেষ্টা করছে শাসক দল৷"
ঐশীর মা শর্মিষ্ঠা ঘোষ দাবি জানিয়েছেন জেএনইউয়ের ভিসির পদত্যাগের। অভিযোগ তুলেছেন, এত বড় ঘটনায় মোটেও উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করছেন না তিনি। কোনও আলোচনাও করছেন না। পাশাপাশি তিনি এ-ও বলেছেন, "মেয়েকে আন্দোলনের পথ থেকে সরে আসতে বলার প্রশ্নই নেই। ওর সঙ্গে বহু ছেলেমেয়ে রয়েছে। সকলেই আহত। কেউ বেশি, কেউ কম।"
একই অভিযোগ তুলে ঐশী নিজেও হাসপাতাল থেকে এদিন বলেন, “যে উপাচার্য ক্যাম্পাসের মধ্যে তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেন না তাঁর লজ্জা হওয়া উচিত। ওই পদে থাকার তাঁর এক্তিয়ার নেই।” ঐশীর আরও অভিযোগ, “উপাচার্য আসলে সঙ্ঘ পরিবারের এজেন্টের কাজ করছেন।”
দুর্গাপুরের মেয়ে ঐশী। ক্লাস টেন পর্যন্ত দুর্গাপুরের কারমেল কনভেন্ট স্কুলে পড়াশোনা। উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন ডিএভি স্কুল থেকে। তারপরে দুর্গাপুর থেকে সোজা নয়াদিল্লি। স্নাতকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে পড়ার পর মাস্টার ডিগ্রিতে পড়াশোনার বিষয় হল: ‘আন্তর্জাতিক সম্পর্ক’। মেধাবী ঐশী এখন ‘আন্তর্জাতিক সম্পর্ক’ তথা ইন্টারন্যাশনাল রিলেশলস নিয়েই এমফিলের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়েই শুরু ছাত্র রাজনীতি। সাধারণ মধ্যবিত্ত বাড়ির মেয়ে ঐশীর পক্ষে ছাত্র আন্দোলনে এতটা দূর যাওয়ার প্রেরণা তাঁর বাবা-মা। বাবা দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশনের কর্মচারী। বাম আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। সেই সূত্রে রাজনৈতিক আবহ বাড়িতে ছিলই। সেই সুবাদেই রাজনীতিতে হাতেখড়়ি ঐশীর।
বর্তমানে সারা দেশে বিপর্যয়ের মুখে যখন বাম আন্দোলন, তখন জেএনইউ-র নির্বাচনে ঐশীর জয়কে ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবেই দেখছিলেন বামপন্থীরা। ঐশী যে রাজ্যের মেয়ে, স্বাধীনতার পরে এই প্রথম বছর, সেই বাংলা থেকে কোনও লোকসভায় বামেদের কোনও সাংসদ নেই। তবু ভোটে জেতার পর জেদ শোনা গিয়েছিল ঐশীর গলায়। বলেছিলেন, “মরুভূমিতে মরুদ্যান খোঁজাটাই আমাদের মতাদর্শ।”