
শেষ আপডেট: 10 September 2022 15:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো, মুর্শিদাবাদ: গঙ্গার গ্রাসে ক্রমশ তলিয়ে যাচ্ছে গ্রাম। কিন্তু এরপরেও ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরে এমনই অভিযোগ জানাচ্ছিলেন গ্রামবাসীরা। অবশেষে শনিবার সেই ভাঙন পরিদর্শনে গিয়েছিলেন রাজ্যের সেচ প্রতিমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন (Sabina Yasmin)। আর সেখানে গিয়েই তুমুল বিক্ষোভের মুখে পড়লেন তিনি। সূত্রের খবর, মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) সামশেরগঞ্জে সাবিনা ইয়াসমিনকে লক্ষ্য করে জুতোও ছোঁড়ে (shoe hurled) গ্রামবাসীরা। এই বচসার মাঝে পড়ে ইঁটের আঘাতে মাথা ফাটে এক তৃণমূল (TMC) কর্মীরও। সবমিলিয়ে সামশেরগঞ্জে এই ঘটনায় তুমুল উত্তেজনা ছড়ায়।
বহু বছর ধরেই গঙ্গার ভাঙনের কবলে মুর্শিদাবাদের বিস্তীর্ণ এলাকা। প্রশাসন একাধিকবার ভাঙন রোধের প্রতিশ্রুতি দিলেও কোনও কাজের কাজ হয়নি। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, গঙ্গার ভাঙন আটকাতে অর্থ বরাদ্দ হয়েছিল। কিন্তু সেই টাকায় নদীর পাড়ে বোল্ডার দেওয়ার বদলে বালির বস্তা দেওয়া হচ্ছে। এতেই ক্ষোভে ফুঁসছিল এলাকাবাসী। এই নিয়ে তাঁরা বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ দেখান।
এদিন মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে সেই ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করতে গিয়েছিলেন রাজ্যের সেচ প্রতিমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন। সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় বিধায়ক আমিরুল ইসলাম ও জঙ্গিপুরের এসডিও সৃঞ্জন শেখরও। তাঁরা সেই এলাকায় পৌঁছতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা। তা দেখে চলে আসেন তৃণমূল কর্মীরাও। এরপর দু'পক্ষের মধ্যে জোর বচসা শুরু হয়।
বিজেপির ‘চোর ধরো’ অভিযান থেকে নবান্নকে আগলাতে মাঠে ২৫ জন আইপিএস সহ ৯৫ পুলিশ কর্তা
কথা কাটাকাটি হতে হতেই তা হাতাহাতিতে গড়ায়। মন্ত্রী এবং তৃণমূল কর্মীদের লক্ষ্য করে এলাকাবাসীরা ইটবৃষ্টি শুরু করে। সেইসময় ইটের আঘাতে মাথা ফাটে নাসির শেখ নামক এক তৃণমূল কর্মীর। তাঁর বাড়ি কাঁকুড়িয়া এলাকায়। মন্ত্রীকে লক্ষ্য করে জুতোও ছোড়ে কয়েকজন। এরপরই তড়িঘড়ি সেখান থেকে সাবিনা ইয়াসমিনকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিকে সামশেরগঞ্জের এই ঘটনায় সরাসরি স্থানীয় সিপিএম কর্মীদের কাঠগড়ায় তুলেছেন বিধায়ক আমিরুল ইসলাম। তাঁর দাবি, 'সাবিনা ইয়াসমিন সেখানে যেতেই হইহট্টগোলের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করেছে সিপিএম কর্মীরা। ওরাই বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। এমনকি ওদেরই ছোড়া ইটের ঘায়ে মাথা ফেটেছে আমাদের এক কর্মীর।