
শেষ আপডেট: 3 May 2023 16:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবার সকালে পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নায় (Moyna) বিজেপির বুথ সভাপতি বিজয়কৃষ্ণ ভুইয়াঁর দেহ উদ্ধার হয়েছিল। তারপর মঙ্গলবার দিনভর অশান্তি চলে। বুধবার বিজেপির (BJP) ডাকা বনধ ঘিরেও রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল ময়নার বিভিন্ন মহল্লা। কিন্তু রাতে টুইট করে এই বিজেপি কর্মী খুনের ঘটনায় শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) জিজ্ঞাসাবাদ করার দাবি জানালেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)।
কেন?
কুণাল তাঁর টুইটে একটি পুরনো ভিডিও পোস্ট করেছেন। যেখানে দেখা যাচ্ছে তমলুক লোকসভায় উনিশের ভোটের প্রচারে বক্তৃতা দিচ্ছেন ‘তৃণমূল নেতা শুভেন্দু অধিকারী।’ তাঁর ভাই দিব্যেন্দু ছিলেন প্রার্থী। তাঁর সমর্থনে ভাষণ দিতে গিয়ে শুভেন্দুকে বেশ চড়া গলায় হুঙ্কার দিতে শোনা যাচ্ছে ওই ফুটেজে।
বক্তৃতা শুনে বোঝা যাচ্ছে মিটিংটি ছিল অক্ষয় তৃতীয়ার দিন। সেই সভায় শুভেন্দু বলছেন, “আমি অনেক মস্তান দেখেছি। লক্ষ্মণ শেঠ নন্দীগ্রামে ৪১ জনকে মেরেছিল। আজকে সে কোথায়? দল পাল্টাতে পাল্টাতে আজকে কংগ্রেসে। কোনও নামগন্ধ নেই”। স্থানীয় স্তরে বিজেপি নেতাদের উদ্দেশে শুভেন্দুর এও হুঙ্কার ছিল, “ইন্টারন্যাশনাল মস্তান কিষেনজিকে দেখেছি। আজকে সে আছে জঙ্গলমহলে?”
এরপর একটি কাগজ দেখে শুভেন্দু এক এক করে স্থানীয় বিজেপি নেতাদের নাম পড়ে যেতে থাকেন। মদন ভৌমিক, আশিষ ভৌমিক, খোকন খুটিয়া, ধ্রুব রাউতদের সঙ্গে বিজয় ভুইয়াঁর নামও বলেছিলেন শুভেন্দু। তারপর এও বলেছিলেন, ২৫ মে শেষ দিন। আমি জানি কীভাবে বাকচার আবর্জনা পরিষ্কার করতে হয়।
আরও পড়ুন: মমতা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিয়েছেন, মোদী রাবড়ি বলে কটাক্ষ করলেও ‘গ্যাসে’ থাকল বিজেপি
সেই ফুটেজ তুলে কুণাল লিখেছেন, ‘ময়নাতে নিহত বিজয় ভুইয়াঁর নামে তৎকালীন তৃণমূল নেতা শুভেন্দু কী বলেছিল শুনুন। তাই ওখানে আদি-নব্য বিজেপির বিবাদ ছিল। এই হত্যাকাণ্ডে শুভেন্দুকেও জেরা করা দরকার। পিছনে গভীর চক্রান্ত থাকতে পারে। তদন্ত হোক”।
ঘটনা হল, শুভেন্দু উনিশে তৃণমূল নেতা হিসাবে যে ঢঙে বিজেপির বিরুদ্ধে হুঙ্কার দিয়েছিলেন, তেইশে কার্যত সেই কায়দাতেই বিজেপি নেতা হিসাবে তৃণমূলের বিরুদ্ধে হুঙ্কার দিয়েছিলেন। উনিশে ময়নায় দাঁড়িয়ে বিজেপির উদ্দেশে বলেছিলেন, কোন অসুখের কী মেডিসিন শুভেন্দু অধিকারীর জানা আছে। আবার মঙ্গলবার ময়নায় গিয়ে বিজেপি নেতা শুভেন্দু বলেছিলেন, তোলামূলকে কীভাবে ঠান্ডা করতে হয় আমার জানা আছে।
অনেকের মতে, শব্দ ব্রহ্ম। একবার বেরিয়ে গেলে ফেরানো মুশকিল। এখন হাতে হাতে ক্যামেরার জমানায় তো আরওই কঠিন। এবার দেখার কুণালদের এই অভিযোগ নিয়ে কী বলেন শুভেন্দু।