
শেষ আপডেট: 16 July 2023 14:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: পার্টি অফিসের বাইরে টাঙানো রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ছবি। ভিতরেও ঝুলছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি। কিন্তু সিঙ্গুরের বেরাবেরি অঞ্চলের তৃণমূল অফিসের দখল চলে গেছে নির্দলের হাতে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
তাই তিনি এবার নির্দল হয়ে গ্রামসভায় লড়েছিলেন। তাঁর প্রতিপক্ষ ছিলেন সিঙ্গুর ব্লক তৃণমূলের সহ সভাপতি আনন্দমোহন ঘোষ। গণনার দিন ব্যালট ছিনতাইয়ের অভিযোগ ওঠে আনন্দমোহনের বিরুদ্ধে।
দীপঙ্করবাবুর অভিযোগ ছিল তিনি ৪৬ ভোটে জিতছিলেন। সেই সময় আচমকাই তৃণমূল প্রার্থী বেশ কিছু ব্যালট ছিনিয়ে ছুট দেন। এরপর আর গণনা হয়নি। রিটার্নিং অফিসারের রিপোর্টের ভিত্তিতে বেরাবেরি ১৩ নম্বর বুথে ভোট বাতিল হয়ে যায়।
নির্বাচন কমিশন বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায় রাজ্যে মোট কুড়িটি বুথে আবার ভোট হবে। তার মধ্যে সিঙ্গুরের বেরাবেরি ১৩ নম্বর বুথও রয়েছে। ইতিমধ্যে দীপঙ্কর ঘোষও হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে আবার ভোটের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছেন। কিন্তু সিঙ্গুরের বেরাবেরিতে তৃণমূলের প্রাক্তন প্রধান নির্দল হয়েও তৃণমূলেরই পার্টি অফিস কব্জা করেছেন। সেখানে তৃণমূলের কারও ঠাঁই হচ্ছে না বলেই অভিযোগ।
দীপঙ্কর ঘোষ অবশ্য বলছেন এই দোতলা অফিস তিনি তৈরি করেছিলেন। সেখানে সিঙ্গুরের বিধায়ক বেচারাম মান্না বা অন্য কারও সাহায্য ছিল না।
সে কথা স্বীকার করেছেন সিঙ্গুরের আরেক তৃণমূল নেতা দুধকুমার ধারা। তাঁকেও দল এবার মনোনয়ন জমা দিতে বলেও প্রতীক দেয়নি। তাই নির্বাচন থেকে তিনি নিজেকে সরিয়ে নেন।
দুধকুমার বলেন, 'যাঁরা তৃণমূল তাঁদের ওই অফিসে যাওয়ার মুখ নেই। কারণ তৃণমূলের যিনি প্রার্থী ছিলেন, তিনি তৃণমূল ব্লক সহ সভাপতি। তিনিই ব্যালট ছিনতাইয়ের মত জঘন্য কাজ করেছেন। তাই হয়তো পার্টি অফিসে যাচ্ছেন না।'
তিনি আরও বলেন, 'বেরাবারিতে তৃণমূলের যাঁরা দুঃসময়ের কর্মী তাঁদের টিকিট দেওয়া হয়নি। অনেকেই বসে গেছেন। আমি সিঙ্গুর ব্লকের সম্পাদক। আগামী দিনে এই দলটাই আর করব না।'
যদিও বিষয়টি নিয়ে সিঙ্গুরের তৃণমূল ব্লক সভাপতি গোবিন্দ ধারা বলেন, এটা নির্দলের পার্টি অফিস নয়, তৃণমূলেরই পার্টি অফিস। দীপঙ্করও তৃণমূলই ছিলেন। নিশ্চয়ই কোনও কারণ ছিল, তাই দল তাঁকে এবার টিকিট দেয়নি। এখন তিনি নির্দল হয়েছেন। যদি তাঁর ক্ষমতা থাকে তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বেচারাম মান্নার ছবি ফেলে দিয়ে নির্দলের অফিস বলে লিখুক।'
শুধু তাই নয়, দীপঙ্করবাবুরকে উদ্দেশ্য করে গোবিন্দ ধারা জানান, ‘পার্টি অফিস কখনও ব্যক্তিগত হয় না এটা দলেরই। এখন ওখানে পুলিশ পাহারা আছে সিআরপিএফ আছে, পঞ্চায়েত গঠন হওয়ার পর আমরাই অফিসের দখল নেব।'
চন্দ্রযানের সাফল্য প্রার্থনা হুগলির চন্দ্রকান্তর বাড়িতে, দেখুন ভিডিও