দ্য ওয়াল ব্যুরো: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেদিন কালীঘাটের বাড়ি থেকে সমস্ত সাংসদদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেছিলেন, সেদিনই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল রাজ্যপাল নিয়ে কেন্দ্রের বাজেট অধিবেশনে সরব হবে তৃণমূল। এও জানা গিয়েছিল, তৃণমূল বলবে, ধনকড়কে বাংলার রাজভবন থেকে সরিয়ে নেওয়া হোক।
পয়লা দিনেই সেই কাজ সেরে ফেললেন উত্তর কলকাতার সাংসদ তথা লোকসভায় তৃণমূল নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের বক্তৃতা দিয়ে বাজেট অধিবেশনের সূচনা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি সংসদকক্ষে ঢোকার সময়ে যখন সমস্ত দলের সংসদীয় নেতারা তাঁর সঙ্গে সৌজন্য বিনময় করছিলেন তখনই ধনকড় নিয়ে কোবিন্দের কাছে এই আর্জি জানান সুদীপ।
সুদীপ জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতিকে তিনি বলেছেন, "গণতন্ত্রের স্বার্থে বাংলা থেকে এই রাজ্যপালকে সরানো হোক। উনি বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।"
এমনিতে রাজ্যপালের সঙ্গে বাংলার শাসকদল ও নবান্নের সংঘাত জলভাতে পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাম্প্রতিক সংঘাত বাঁধে গত ২৫ জানুয়ারি জাতীয় ভোটার দিবসে। ওইদিন বিধানসভায় আম্বেদকর মূর্তিতে মালা দিতে এসে সরকারের তুলোধনা করেছিলেন রাজ্যপাল।
আইনশৃঙ্খলা, ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে সরব হন ধনকড়। অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কেও রাজ্যপাল একগুচ্ছ অভিযোগ করেন সংবাদমাধ্যমের সামনে।
পরিস্থিতি এমন জায়গায় যে, অধ্যক্ষ বলেন তিনি সংবাদমাধ্যমের থেকে ফুটেজ চেয়ে দেখবেন রাজ্যপাল কী কী বলেছেন। এও বলেছিলেন, এরপর রাজ্যপাল যেচে আসতে চাইলে তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হবে উদ্দেশ্য কী?
এই পরিস্থিতির মধ্যেই বাজেট অধিবেশনকে রাজ্যপালের স্বরূপ তুলে দেওয়ার মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করার কৌশল নিয়েছিল তৃণমূল। শুরুর দিনেই রাষ্ট্রপতিকে সামনে পেয়ে রাজ্যপাল সম্পর্কে অভিযোগ করার পাশাপাশি তাঁকে বাংলা থেকে সরিয়ে নেওয়ার আর্জি জানালেন সুদীপ। প্রসঙ্গত, এর আগেও রাজ্যপালের ভূমিকা নিয়ে রাইসিনা পাহাড়ে গিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি দিয়ে এসেছিল তৃণমূল।