দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেয়ের ইজ্জত বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ চলে গেছে মায়ের। বুধবার বাগনানের এই মর্মান্তিক ঘটনায় অভিযোগ উঠেছিল গোপালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যের স্বামী ও তৃণমূলের নেতা কুশ বেরার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি সামনে আসার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ওই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিল দল। অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হল। বুধবার রাতেই এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছেন জেলা তৃণমূল পর্যবেক্ষক তথা পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।
জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করে ঘর থেকে বেরিয়ে ছাদে উঠে গেছিলেন কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। রাতে সেখানেই মাদুর পেতে শুয়েছিলেন তিনি। অভিযোগ, বেশি রাতে বাড়ির পাশের সুপারি গাছ বেয়ে ছাদে উঠে আসে কুশ বেরা ও আরও একজন। তাঁরা ওই তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। প্রাণ ও সম্ভ্রম বাঁচাতে চিৎকার শুরু করেন তরুণী। মেয়ের ডাক শুনে দ্রুত ছাদে উঠে আসেন তাঁর মা। অভিযোগ তখনই ওই দুষ্কৃতীরা মেয়েকে ছেড়ে মাকে ধাক্কা মেরে ছাদ থেকে ফেলে দেয়। এরপর ঘটনাস্থল থেকে ছুটে পালায় তারা।
মেয়েটির চিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে আসেন। ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর জখম ওই মহিলাকে উলুবেড়িয়া হাসপাতালে নিয়ে যান তাঁরা। সেখানেই মৃত বলে ঘোষণা করা হয় ওই মহিলাকে। সকালে এই খবর জানাজানি হতেই উত্তেজনা ছড়াতে থাকে। ওই কলেজ ছাত্রী বলেন, ‘‘মার সঙ্গে ঝগড়া করে আমি ছাদে উঠে এসেছিলাম। আমি শুয়ে শুয়ে মোবাইলে একটা গেম দেখছিলাম। হঠাৎই গাছ বেয়ে দুজন ছাদে উঠে আসে। তাদের এতজন আমার পা টেনে ধরে। একজন আমার মুখ চেপে ধরে। আমি কোনও মতে একবার মা বলে চিৎকার করতে পেরেছিলাম। তা শুনতে পেয়েই মা দৌড়ে ছাদে উঠে এসেছিল। তখনই ওরা মাকে ধাক্কা দিয়ে ছাদ থেকে ফেলে দেয়।’’
ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরেই স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক অরুণাভ সেন আশ্বাস দিয়েছিলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলেই কুশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারপর কয়েক ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই অবশেষে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা কুশকে বহিষ্কার করল দল। আপাতত সে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে।
এই ঘটনায় অবশ্য গেরুয়া শিবির আক্রমণে বিদ্ধ করেছে তৃণমূলকে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে এসেছিলেন বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় ও সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। অপরাধীদের গ্রেফতারের দাবিতে বাগনান থানার সামনেও শুরু হয় বিক্ষোভ। পরে সৌমিত্র খাঁর নেতৃত্বে ৬ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে আসেন উলুবেড়িয়ার এসডিপিও। তিনি সেখানেই ওই ছাত্রীর এফআইআর নেন। পরে হাওড়া থেকে গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্ত কুশ বেরাকে। তার সঙ্গীর খোঁজে তল্লাশি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।