
শেষ আপডেট: 14 October 2019 18:30
থানায় নিখোঁজ ডায়রি করার পরেই সন্দেহ হয় পুলিশের। এইসব এলাকায় বিপদের তোয়াক্কা না করেই প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে খাদানে নামে যুবকরা। তল্লাশি চালাতে গিয়ে ওই খাদানের বাইরে কিছু জামাকাপড় দেখেই সন্দেহটা গাঢ় হয়। রাতেই পৌঁছয় পুলিশ বাহিনী, উদ্ধারকারী দল। তবে যুবকদের খোঁজ পাওয়া যায়নি। সোমবার সকাল থেকে ফের শুরু হয় উদ্ধারকাজ। উদ্ধারকারী দলের সদস্যেরা জানিয়েছেন, গোটা খাদানটাই বিষাক্ত গ্য়াসে ভরে গেছে। এই কারণেই ভিতর থেকে উঠে আসতে পারেননি তিন যুবক। মনে করা হচ্ছে দমবন্ধ হয়ে ভিতরেই মৃত্যু হয়েছে তাঁদের। তবে সেটা এখনও নিশ্চিত করে বলা যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, খাদানের মুখ এতটাই সংকীর্ণ যে সেটা খুঁড়ে বড় করতে অনেক সময় লেগেছে। তারপর বিষাক্ত গ্যাসের কারণে ভিতরে নামাও সম্ভব হচ্ছে না। সোমবার সন্ধে থেকে পাইপ নামিয়ে গ্যাস বার করার কাজ শুরু হয়। তবে তিনটে পাইপ নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকারী দলের সদস্যেরা।
"ঠিকমতো উদ্ধারকাজ হচ্ছে না। আজ সকালে উদ্ধারকারী দলের কোনও সদস্যকেই দেখা যায়নি। জবাব দিক পুলিশ? আমাদের ঘরের ছেলেকে ফিরিয়ে দিক," দাবি এলাকাবাসীর।

নিরাপত্তাবিধির পরোয়া না করে অবৈধ খাদানে কয়লা কাটে চোরেরা, তাতে লাগোয়া জনপদের বিপদ বাড়ে। ধস নামে, বাড়িতে ফাটল ধরে, মাটি ফুঁড়ে আগুন ওঠে। তাই এই ধরনের খাদান বৈধ করা অসম্ভব। রানিগঞ্জ, কুলটি, জামুড়িয়া, পাণ্ডবেশ্বরের মতো খনি এলাকার বাসিন্দাদের বরাবরের অভিযোগ, স্থানীয় কিছু মাফিয়া এই কয়লা পাচার নিয়ন্ত্রণ করে। সব দেখেও ব্যবস্থা নেয় না পুলিশ। বাসিন্দাদের অভিযোগ, অবৈধ কয়লা পুড়িয়ে তা বস্তাবন্দি করে জ্বালানির কাজে ব্যবহারের জন্য বিক্রি করা হয়। সেই কয়লা পোড়ানোর জেরে দূষণে নাজেহাল হতে হয়। পুলিশকে অনেক বার বলেও কিছু হচ্ছে না।
ঘরের ছেলে কি সত্যি ঘরে ফিরবে? উত্তর জানেন না বৃদ্ধা মা। তাও রোজ সকাল-বিকেলে কষ্ট করেও বাড়ির দাওয়ায় গিয়ে বসেন। যদি কেউ ফিরিয়ে এনে দিতে পারে ছেলেটাকে। তারই প্রতীক্ষায়!
পড়ুন, দ্য ওয়ালের পুজোসংখ্যার বিশেষ লেখা…