.webp)
শেষ আপডেট: 7 October 2023 19:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: সদর ব্লকের গড়ালবাড়ি গ্রামপঞ্চায়েতের ডাঙাপাড়ার বাসিন্দা বছর ২৫ এর জুয়েল ইসলাম। প্রায় দু’বছর ধরে সিকিমে ভারতীয় সেনা ছাউনিতে পণ্যবাহকের কাজ করেন তিনি। সম্প্রতি ছুটি কাটাতে বাড়ি এসেছিলেন। এরমধ্যেই তাঁর বিয়ের কথা পাকা হয়। ছুটি শেষ হয়ে যাওয়ার গত ৩ তারিখ তিনি ফের সিকিমে গিয়ে কাজে যোগ দেন। ওইদিন সন্ধ্যায় শেষবার কথা হয়েছিল পরিবারের সঙ্গে। এরপর রাতে মেঘভাঙা বৃষ্টির পর আর যোগাযোগ করা যায়নি জুয়েলের সঙ্গে।
বৃষ্টির পর সিকিমে ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাসে ভেসে গিয়েছেন বহু মানুষ। এখনও তাঁদের অনেকেরই কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। বুধবারের পর থেকে বহ দেহ ভেসে এসেছে তিস্তায়। এদের মধ্যে মাত্র সাতটি দেহ শনাক্ত করা গেছে। বাকি দেহগুলি রয়েছে জলপাইগুড়ি হাসপাতালের মর্গে। শনিবার মর্গ থেকে বেরিয়ে জুয়েলের দাদা মহম্মদ সাদ্দাম বলেন, “বন্যার খবর পাওয়ার পর থেকে আমরা ভাইয়ের সঙ্গে অনেক যোগাযোগ করার চেষ্টা করি। কিন্তু কিছুতেই কোনও খবর পাচ্ছি না। আজ মর্গে এসে একের পর এক দেহ দেখলাম। মুখগুলোই তো চেনা যাচ্ছে না।” কথা বলতে বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
মৃতদেহের খোঁজে শনিবারও দিনভর তল্লাশি চলে তিস্তা নদীতে। দিনের শেষে তিনটি মৃতদেহ উদ্ধার হয়। এই নিয়ে গত চারদিনে তিস্তা থেকে মোট ৩০ টি মৃতদেহ উদ্ধার করল পুলিশ। উদ্ধার হওয়া দেহগুলি জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। সেখানে রয়েছেন সেনার আধিকারিক এবং কর্মীরাও। এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ অনেকেই। তাঁদের পরিবারের লোকজনও ভিড় করেছেন হাসপাতালে। জলপাইগুড়ির পুলিশসুপার উমেশ খান্ডবাহালে জানান, মৃতদেহগুলির শনাক্তকরণের কাজ চলবে।