দ্য ওয়াল ব্যুরো: সারা রাজ্য জুড়ে ছড়িয়ে থাকা তাঁর মূর্তি দলিতদের সংগ্রামের প্রতীক বলে শীর্ষ আদালতকে জানালেন উত্তর প্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতী। মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন গোটা রাজ্য জুড়ে নিজের মূর্তি ও দলীয় প্রতীক বসানোর বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা হয়। সরকারি অর্থ খরচ করে নিজের মুর্তি ও দলীয় প্রতীক নির্মাণ আইনানুগ নয় এই মর্মে এক আইনজীবী ২০০৯ সালে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন। সেই মামলার রায়ে শীর্ষ আদালত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে মূর্তি নির্মাণের জন্য সরকারি তহবিল থেকে খরচ হওয়া দু'হাজার কোটি টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশের জবাবে একমাস পর আদালতে একটি হলফনামা পেশ করে মায়াবতী জানান, সমস্ত আইন মেনে মূর্তি নির্মাণের জন্য বাজেটে যথাযথ অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল।
সেই হলফনামায় বিএসপি নেত্রী আরও জানিয়েছেন, ''নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের চাহিদা প্রকাশিত হওয়ায় মূর্তি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। বিধানসভার বিধায়করা চেয়েছিলেন কাঁসিরামের সঙ্গে দলিত মহিলাদের সংগ্রামের প্রতীক মায়াবতী'র মূর্তি প্রতিষ্ঠা করতে।'' প্রশংসা ও জনসমর্থন প্রকাশ করার জন্য অন্যান্য রাজনৈতিক দল অতীতেও তাদের নেতা–নেত্রীদের মূর্তি স্থাপন করেছে বলে জানিয়ে মায়াবতী এই জনস্বার্থ মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে চিহ্ণিত করেছেন। এই মামলার সঙ্গে জনগণের কোনও স্বার্থ জড়িত নয় বলেও তিনি অভিমত প্রকাশ করেছেন ওই হলফনামায়।
বহুজন সমাজ পার্টির দলীয় প্রতীক হল হাতি। সেই হাতির মূর্তি বসানোর প্রসঙ্গে মায়বতী জানিয়েছেন, হাতি শুধুমাত্র বিএসপি'র দলীয় প্রতীক নয়, ঐতিহ্যগত ভাবে্ হাতি ভারতীয় স্থাপত্যশিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী ৬০টি হাতি তৈরি করতে খরচ হয়েছে ৫২.২০ কোটি টাকা, যা শুধুমাত্র জনগণের টাকার অপচয়ই নয় নির্বাচন কমিশনের দ্বারা প্রচারিত নির্দেশিকারও পরিপন্থী। প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ'র নেতৃত্বে গঠিত বেঞ্চ এই জনস্বার্থ মামলার রায় দিতে গিয়ে জানিয়েছে, সরকারি কোষাগার থেকে নিজের এবং দলীয় প্রতীক নির্মাণের জন্য যে টাকা খরচ করেছেন সেই সমস্ত টাকা মায়াবতীকে সরকারকে ফেরত দিতে হবে।