ল্যান্ডফল শুরু করেছে সুপার সাইক্লোন উমফান, আর মাত্র ৩৫ কিমি দূরে সাগরদ্বীপ থেকে
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পূর্বাভাস ও আশঙ্কা সত্যি করে দুপুর আড়াইটে নাগাদ আছড়ে পড়তে শুরু করেছে সুপার সাইক্লোন উমফান। চার ঘণ্টা ধরে চলবে এই ল্যান্ডফল। প্রতি ঘণ্টায় ২৮ কিলোমিটার বেগে এগিয়ে আসছে উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে। সাগরদ্বীপ থেকে আর মাত্র ৩৫ ক
শেষ আপডেট: 20 May 2020 10:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পূর্বাভাস ও আশঙ্কা সত্যি করে দুপুর আড়াইটে নাগাদ আছড়ে পড়তে শুরু করেছে সুপার সাইক্লোন উমফান। চার ঘণ্টা ধরে চলবে এই ল্যান্ডফল। প্রতি ঘণ্টায় ২৮ কিলোমিটার বেগে এগিয়ে আসছে উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে। সাগরদ্বীপ থেকে আর মাত্র ৩৫ কিলোমিটার দূরে আছে উমফান।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের ডেপুটি ডিরেক্টর সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, যে সময়ে আন্দাজ করা গিয়েছিল, সেই সময়েই শুরু হয়েছে ল্যান্ডফল। এই সাইক্লোন একটা বিশাল স্ট্রাকচার। এর একটি আই তথা চোখ রয়েছে। তার বাইরে রয়েছে ওয়াল ক্লাউডের আস্তরণ। তার বাইরে একটা আউটার পেরিফেরি থাকে। প্রথমে ফরওয়ার্ড সেকশন যাবে। তার পর আই তথা চোখ যাবে। তার পর শেষ অংশটা আছড়ে পড়বে মাটিতে। তাই অন্তত চার ঘণ্টা ধরে চলবে এই ল্যান্ডফল।
ইতিমধ্যেই উমফানের প্রভাব শুরু হয়ে গিয়েছে রাজ্যে। দিঘা ও সাগরদ্বীপের উপকূল এলাকায় ঢেউয়ের উচ্চতা বাড়ছে। সেইসঙ্গে ঝড়ের গতিবেগও বাড়ছে। সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, দক্ষিণ ২৪ পরগনার উপকূলবর্তী এলাকায় ঝড়ের গতিবেগ ১৭০ কিলোমিটারের কাছাকাছি রয়েছে। উমফানের প্রভাবে ঝড় শুরু হয়েছে কলকাতাতেও। এই মুহূর্তে আলিপুরে ঝড়ের গতিবেগ ৬৭ কিলোমিটার।
বুধবার সকাল থেকেই নবান্নের কন্ট্রোল রুমে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীও জানিয়েছেন, উমফানের চোখ ঢুকে গিয়েছে সাগরে। অর্থাৎ দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার উপকূল এলাকা সাগর অঞ্চলে। তার লেজ এখনও ঢোকেনি। কিন্তু ওটাই বড় ধাক্কা দিকে দিতে পারে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার উপকূলে ও দিঘায় ঝড়ের গতি তীব্র হচ্ছে। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায় ঝড়ের তীব্রতা এখনও ঘন্টায় দেড়শ কিলোমিটার রয়েছে। দিঘা কন্ট্রোলরুম থেকে জানা গিয়েছে সেখানে ঝড়ের গতি ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটারের বেশি। সোঁ সোঁ করে হাওয়ার আওয়াজ হচ্ছে। সেই সঙ্গে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে দিঘা, নন্দীগ্রামে।
ইতিমধ্যেই ঝড়ের ধাক্কায় দক্ষিণ ও উত্তর চব্বিশ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে প্রচুর গাছ উপড়ে পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরে কাঁচা ঘরবাড়িও ভেঙেছে বেশ কিছু। ঝড়ের প্রভাবে গাছ পড়েছে কলকাতাতেও। তবে এখুনি সেই কাজ সরাতে বারণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যবাসীকে বাড়ির বাইরে বেরতে নিষেধ করেছেন তিনি।
এই অবস্থায় এই তিন জেলার জেলাশাসককে প্রতি মুহূর্তে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তা ছাড়া যেখানে ঝড়ের দাপট বেশি হচ্ছে সেখানে প্রয়োজন মতো বিদ্যুতের সংযোগ ছিন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।