
শেষ আপডেট: 19 November 2018 08:26
গ্রহীতা অভিষেক মিশ্র এবং সঞ্জিত বালা।[/caption]
এর আগে আকাশপথে ভিন্ রাজ্য থেকে এ শহরে অঙ্গ নিয়ে আসা হলেও, সড়কপথে এত দীর্ঘ পথ পেরিয়ে অঙ্গ নিয়ে আসার ঘটনা বিরল। ছিল অন্য চ্যালেঞ্জও। শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করার পরে মাত্র পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত কার্যকরী থাকে লিভার। কিডনি থাকে আট থেকে দশ ঘণ্টা। তার মধ্যেই তা প্রতিস্থাপিত করতে হয় গ্রহীতার দেহে।
আরও পড়ুন: দীর্ঘতম গ্রিন করিডরে এল কনিষ্ঠতম দাতার অঙ্গ, রাতেই অস্ত্রোপচার শুরু এসএসকেএম-এ
রবিবার দুর্গাপুরের মিশন হাসপাতাল থেকে কলকাতার এসএসকেএম-- ১৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথ পেরিয়ে আসতে সময় লাগে ঘণ্টা আড়াই। মাঝপথে আবার ঘটে ছোট দুর্ঘটনাও। পানাগড় জাতীয় সড়কে আহত হন দু'জন। কিন্তু সমস্ত বিপত্তি ও আশঙ্কা পার করে সফল হয় অঙ্গ আনা এবং প্রতিস্থাপন করা।
[caption id="attachment_53259" align="aligncenter" width="1280"]
দুর্গাপুর মিশন হাসপাতাল থেকে বার করা হচ্ছে মধুস্মিতার দেহ।[/caption]
পারিবারিক সূত্রের খবর, জন্ম থেকেই অসুস্থ ছিল মধুস্মিতা। ভাল করে হাঁটা-চলা, এমনকী কথাও বলতে পারত না সে। একমাত্র মেয়েকে সুস্থ করে তোলার কম চেষ্টা করেননি বাঁকুড়ার মেজিয়া থার্মাল পাওয়ার প্লান্টের কর্মী, বাবা দিলীপ বায়েন। ১২ তারিখ রাতে আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়ে বছর তেরোর ওই কিশোরী। প্রথমে তাকে ভরতি করা হয়েছিল বাঁকুড়ার সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে। অবস্থার অবনতি হলে স্থানান্তরিত করা হয় দুর্গাপুরের মিশন হাসপাতালে। শনিবার বিকেলে চিকিৎসকেরা জানিয়ে দেন, ‘ব্রেন ডেথ’ হয়েছে মধুস্মিতার। দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার পর একমাত্র মেয়ের অঙ্গদানে সম্মত হন বায়েন দম্পতি। আর দেরি করেননি দুর্গাপুরের মিশন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
[caption id="attachment_53304" align="aligncenter" width="600"]
মধুস্মিতা বায়েন।[/caption]
এর পরে রবিবার ভোর থেকেই শুরু হয়ে যায় তৎপরতা। মধুস্মিতার রক্তের নমুনা পরীক্ষা করে পাঠিয়ে দেওয়া হয় কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে। সেই নমুনা মিলিয়ে তৈরি রাখা হয় কিডনি এবং লিভার গ্রহীতাদের। দুর্গাপুর থেকে কলকাতা পর্যন্ত গোটা রাস্তায় গ্রিন করিডর করে তৈরি করে রাজ্য পুলিশ ও কলকাতা পুলিশ। রবিবার সন্ধে সাতটা কুড়ি নাগাদ দু'টি অ্যাম্বুল্যান্সে মধুস্মিতার বাক্সবন্দি অঙ্গ নিয়ে কলকাতার উদ্দেশে রওনা হন দুর্গাপুরের মিশন হাসপাতালে ১০ জন চিকিৎসকের একটি দল। ন'টা চল্লিশ নাগাদ কিডনি, লিভার ও কর্নিয়া পৌঁছে যায় এসএসকেএম হাসপাতালে।
দেখে নিন, কী ভাবে আনা হল অঙ্গগুলি।
https://www.youtube.com/watch?v=b1LvsyhWnh4
রাতেই শুরু হয় অস্ত্রোপচার। অবশেষে সফল হয় প্রতিস্থাপন। ছোট্ট মধুস্মিতার লিভার শরীরে ধারণ করে আপাতত সুস্থ রয়েছেন ৪৪ বছরের সঞ্জিত বালা। দু'টি কিডনি প্রতিস্থাপনের পরে ঠিক আছেন ২০ বছরের অভিষেক মিশ্র ও ২৩ বছরের মিঠুন দালালও। যদিও একটি নির্দিষ্ট সময়ের আগে তাঁদের সম্পূর্ণ 'সুস্থ' বলতে রাজি নন চিকিৎসকেরা। আপাতত সফল অস্ত্রোপচারটুকুই হয়েছে বলে বলা যায়। মধুস্মিতার চোখের কর্নিয়া সংরক্ষণ করা হয়েছে আই ব্যাঙ্কে।
কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের বক্তব্য পোস্ট করা হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। জানানো হয়, এই দুরূহ কাজটা সম্ভব হয়েছে আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেট, পূর্ব বর্ধমান এবং হুগলী জেলা পুলিশ, চন্দননগর কমিশনারেট, হাওড়া কমিশনারেট এবং কলকাতা পুলিশের মধ্যে নিখুঁত সমন্বয়ের ফলেই। মধুস্মিতার অভিভাবকদের আন্তরিক সমবেদনার পাশাপাশি জানানো হয় কুর্নিশও। যাঁদের দেহে অঙ্গ প্রতিস্থাপিত হল, তাঁদের আরোগ্য কামনা করা হয়। অভিনন্দন জানানো হয় সেই চিকিৎসকদের, যাঁরা অঙ্গ প্রতিস্থাপনের কাজটি সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন করলেন।
দেখে নিন যাত্রা পথের ভিডিও।
https://www.facebook.com/kolkatapoliceforce/videos/1943450995950338/