দ্য ওয়াল ব্যুরো, বাঁকুড়া: সাত সকালে কংসাবতী নদীর উপর থাকা ক্যানেল ভেঙে বিপত্তি জয়পুর ব্লকের উত্তরবাড় গ্রাম পঞ্চায়েতের জরকা গ্রামে। গ্রামে জল ঢুকে পড়ায় নিরাশ্রয় হলেন একটা বড় অংশের মানুষ। তাঁদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, জরকা গ্রামের পাশ দিয়ে যাওয়া কংসাবতী সেচ খাল মঙ্গলবার ভোরে ভেঙে পড়ে। ঘুম থেকে উঠেই হতচকিত হয়ে পড়েন গ্রামের মানুষ। হুহু করে তখন জল ঢুকছে গ্রামে। দেখতে দেখতে জলমগ্ন হয়ে পড়ে গ্রাম। বাড়িতে জল ঢুকে যায়। এই অবস্থায় যে যেমন পেরেছেন জিনিসপত্র নিয়ে উঁচু জায়গায় আশ্রয় নেন। পরে স্থানীয় একটি ক্লাবের তরফে দুর্গতদের একটি স্কুলে নিয়ে গিয়ে আপাতত থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
এলাকার বাসিন্দা সঞ্জয় মহাদণ্ড, কাঞ্চন মহাজন, ময়না মিদ্যেরা বলেন, ‘‘সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি বাড়ির সামনে জল বইছে। পুরো বিষয়টি বুঝে ওঠার আগেই সেই জল ঘরের মধ্যে ঢুকে পড়ে। ঘরে মজুত থাকা খাবার, উৎসবের জন্য জমানো টাকা কোনও কিছুই বের করতে পারিনি। সব কিছুই জলের তোড়ে ভাসিয়ে নিয়ে চলে গেছে। নিজেরা কোনওমতে প্রাণ নিয়ে উঁচু জায়গায় চলে এসেছি।’’
গ্রামের আরেক বাসিন্দা অশোক দাস বলেন, ‘‘জমিতে পাকা ধান রয়েছে। আর বাঁচানো যাবে বলে মনে হয় না। হাঁস, মুরগি, গোরু-বাছুরও সব জলের তোড়ে ভেসে গেছে। বাড়ি থেকে টাকা পয়সাও নিয়ে আসতে পারিনি। কীভাবে ঘুরে দাঁড়াব জানি না।’’
খবর পেয়েই জরকা গ্রামে যান জয়পুর পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ ইয়ামিন শেখ। তিনি বলেন, ‘‘আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁদের নামের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। প্রত্যেকেই সরকারিভাবে সাহায্য পাবেন। এই মুহূর্তে তাঁদের কোনও অসুবিধে নেই। প্রত্যেকের থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’’
গ্রাম বাঁচাতে শুরু হয়েছে ক্যানেল মেরামতির কাজ। প্রশাসনের লোকজনদের সঙ্গে হাত লাগিয়েছেন গ্রামের মানুষও।জয়পুরের বিডিও বিট্টু ভৌমিক বলেন, ‘‘সেচ দফতরের ওই ক্যানেলের পাড় ভেঙে এই ঘটনা ঘটেছে। জল নেমে গেলে ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষ যাতে ক্ষতিপূরণ পান সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।’’