দরজা খুলল প্রাচীন মন্দিরগুলির, অর্থনীতির হাল ফেরার আশায় মন্দির নগরী বিষ্ণুপুর
মৃন্ময় পান, বাঁকুড়া: মন্দির নগরী হিসেবেই দেশ বিদেশে খ্যাতি বিষ্ণুপুরের। টেরাকোটার অপরূপ সৌন্দর্য মণ্ডিত সব প্রাচীন মন্দিরের টানে রাজ্য, দেশ, এমনকি দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশ থেকেও প্রচুর মানুষ ছুটে আসেন এক সময়ের মল্লরাজাদের রাজধানীতে। করোনা
শেষ আপডেট: 11 July 2020 06:01
মৃন্ময় পান, বাঁকুড়া: মন্দির নগরী হিসেবেই দেশ বিদেশে খ্যাতি বিষ্ণুপুরের। টেরাকোটার অপরূপ সৌন্দর্য মণ্ডিত সব প্রাচীন মন্দিরের টানে রাজ্য, দেশ, এমনকি দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশ থেকেও প্রচুর মানুষ ছুটে আসেন এক সময়ের মল্লরাজাদের রাজধানীতে। করোনা রুখতে দীর্ঘ লকডাউনে এতদিন দেশী-বিদেশী সমস্ত পর্যটকের প্রবেশই নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। মন্দির গুলিতে নিত্য পুজাপাঠ চালু থাকলেও সাধারণের জন্য বন্ধ ছিল মন্দিরের দরজা। আনলক-২ পর্বে পুরাতত্ত্ব বিভাগের নির্দেশে আবার প্রবেশের অনুমতি মিলল। খুলে দেওয়া হল বন্ধ তালা।
তবে করোনা সংক্রমণ এড়াতে দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষেই মিলবে মন্দিরে ঢোকার ছাড়পত্র। প্রতিটি মন্দিরের সামনে রাখা থাকছে স্যানিটাইজার। নিজেকে স্যানিটাইজ করার পর সামনে রাখা খাতায় নিজের নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর লিখতে হবে। তারপর উপস্থিত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির থার্মাল স্ক্রিনিং করে শরীরের তাপমাত্রা মাপবেন। এতো সবের পরেই মিলবে মন্দিরে ঢোকার ছাড়পত্র। মন্দিরের ভিতরেও যাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকে সেদিকেও কড়া নজর রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে আপাতত মন্দিরের সামনে গ্রুপ ছবি তোলার উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ফলে দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে মুঠো ফোনে মন্দিরের ছবি ধরে রাখছেন কেউ কেউ।

করোনা রুখতে দেশজুড়ে লকডাউন শুরু হওয়ার পর মুখ থুবড়ে পড়েছিল বিষ্ণুপুরের পর্যটন ব্যবসা। পর্যটকদের আনাগোনা বন্ধ থাকায় চরম সমস্যায় পড়েছিলেন পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষজন। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন ছোট ব্যবসায়ীরা। কারণ পর্যটক এলেই দু’পয়সা আয়ের মুখ দেখেন এঁরা। প্রায় তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে পর্যটক আসা বন্ধ থাকায় মুখ থুবড়ে পড়েছিল মন্দির নগরীর অর্থনীতি। তাই আবার মন্দিরগুলির দরজা খুলে যাওয়ায় খুশি ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় ব্যবসায়ী সুমন দে, প্রদীপ পণ্ডিতরা বলেন, ‘‘সরকারীভাবে মন্দির খোলার পর পর্যটকরা আসতে শুরু করেছেন। সেরকম ভিড় এখনও জমেনি। তা হলেও বিক্রি বাড়ছে। আগামী দিনে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়বে বলেই মনে করছি আমরা।’’
মন্দিরের দরজা খুলে যাওয়ায় খুশি পর্যটকেরাও। গোটা বিষ্ণুপুর শহরের ইতিউতি ছড়িয়ে রয়েছে প্রাচীন সব মন্দির। ইতিহাস ও ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ। সেই মন্দিরগুলি ঘুরে দেখার ফাঁকে বর্ধমানের শেহরাবাজার থেকে আসা গোপা মিদ্যা আমাদের ক্যামেরার মুখোমুখি হয়ে বলেন, ‘‘দীর্ঘ লকডাউনে বাড়িতে থেকে হাঁপিয়ে উঠেছিলাম। বিষ্ণুপুরে মন্দিরের দরজা খোলা হয়েছে খবর পেয়েই সপরিবারে চলে এলাম। একইসঙ্গে বন্দি জীবন থেকে মুক্তি, অন্যদিকে প্রাচীন ইতিহাসকে ছুঁয়ে দেখা, এ কী কম পাওনা?’’