দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: শ্রাবণ মাস এসে গেছে। কিন্তু চেনা ছবিটা উধাও আলমগঞ্জের বর্ধমানেশ্বর মন্দিরে। প্রতিবছর শ্রাবণ মাস এলেই ভিড় বাড়ে। শুধু স্থানীয় মানুষজনই নন, শিবের মাথায় জল ঢালতে আসেন দূরান্তের ভক্তরাও। করোনা সংক্রমণের শঙ্কায় এবার গোটা শ্রাবণ মাস মন্দির বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিল কর্তৃপক্ষ।
গত কয়েকদিনে গোটা দেশেই হুহু করে বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা। পরিস্থিতি মারাত্মক ঘোরালো হয়ে উঠেছে এ রাজ্যেও। গোটা পূর্ব বর্ধমান জেলাতেই কোভিডে আক্রান্তের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বর্ধমান শহরের ১২, ১৩ ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে জারি হয়েছে নতুন করে লকডাউন। প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ায় শহরের বিভিন্ন জায়গায় কন্টেইনমেন্ট জোন করা হয়েছে। আতঙ্কিত নাগরিকরাও চাইছেন কড়া বিধি লাগু হোক।
করোনা সংক্রমণ রুখতে এবার গোটা শ্রাবণ মাসই আলমগঞ্জের বর্ধমানেশ্বর মন্দির বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সারাবছরই ভক্তরা আসেন এই মন্দিরে। তবে ভিড় বাড়ে শ্রাবণ মাসে। শ্রাবণের পয়লা তারিখ থেকে মন্দিরে ভক্তদের ঢল নামে। মেলা বসে। হয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কিন্তু এই বছর সবই বন্ধ।
১৯৭২ সালে আলমগঞ্জে খানিকটা ডাঙা জমি কেটে ধান জমি বার করার সময়ে মাটির তলা থেকে প্রায় ১৩ টন ওজনের কষ্টি পাথরের শিবলিঙ্গটি উদ্ধার হয়। দৈর্ঘ্য পাঁচ ফুট আট ইঞ্চি। শিবলিঙ্গের নীচের লিপি থেকে ঐতিহাসিকদের অনুমান এটি কুষাণ যুগে তৈরি। ওজন ও আয়তনের জন্য ভক্তদের কাছে মোটা শিব হিসেবেই পরিচিত বর্ধমানেশ্বর।
প্রতিদিনই ভক্ত সমাগম হয়। কাটোয়ার গঙ্গা থেকে বাঁকে করে জল নিয়ে ভক্তরা পায়ে হেঁটে এসে বর্ধমানেশ্বরের মাথায় ঢালেন। তবে শ্রাবণ মাস এলেই মানুষের ভিড় বাড়ে মন্দির প্রাঙ্গনে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভিড় লেগেই থাকে মন্দিরে। কিন্তু করোনার কারণে এবার সব বন্ধ। শুধুমাত্র নিত্য পুজোটুকু ছাড়া আর কিছুই করা হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন মন্দির কর্তৃপক্ষ। এলাকার বাসিন্দা শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন ‘‘এবারই প্রথম নিয়মের ব্যতিক্রম হল। মানুষের জীবন তো আগে। তাই সবাইকেই নির্দেশিকা পালন করতে হবে।’’ মন্দিরের পুরোহিত বাসুদেব ব্যানার্জী বলেন, ‘‘এ বার গোটা শ্রাবণ মাসই সকালে নিত্যপুজো আর সন্ধ্যায় আরতি ছাড়া আর কিছুই হবে না। বাইরের মানুষজনদের ঢোকার ক্ষেত্রে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।’’