দ্য ওয়াল ব্যুরো, হাওড়া: বেতনের দাবিতে এবার থালা-বাটি হাতে রাস্তায় নেমে প্রতীকি ভিক্ষা চাইতে দেখা গেল হুগলি নদী জলপথ পরিবহণের কর্মীদের। শুক্রবার দুপুরে হাওড়া ফেরিঘাট সংলগ্ন জলপথ পরিবহণ ভবনের সামনে এই প্রতীকী বিক্ষোভ দেখান কর্মীদের একাংশ। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন কাজ করছেন তারা। কিন্তু বেতন পাচ্ছেন না। জলপথে কর্মরত স্থায়ী ও অস্থায়ী প্রায় ৭০০ কর্মীরই সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছে।
একাধিকবার রাজ্যে সরকারের কাছে আর্জি জানানোর পর রাজ্য সরকারের তরফে দু'কোটি টাকা তাঁদের সাহায্য করা হয়। কিন্তু ওই কর্মীদের অভিযোগ, এরপর তাঁরা এক মাসের বেতন পেলেও পুজোর বোনাস সহ আরও দু’ মাসের বেতন পাননি। এই অবস্থায় থমকে যেতে বসেছে তাঁদের সংসার।
জলপথ পরিবহণের ওই কর্মীরা জানান, রাজ্য সমবায় মন্ত্রী অরূপ রায়ের কাছে তাঁরা দরবার করেছেন এর আগে। কিন্তু জলপথ পরিবহণের অ্যাডমিনিস্ট্রেটর আমানুল ইলাল তাঁদের সঙ্গে দেখা করছেন না। তাই সব মিলিয়ে তাদের বেতন প্রক্রিয়া এখন কার্যত বিশবাঁও জলে। এ প্রসঙ্গে রাজ্যের সমবায় মন্ত্রী অরূপ রায় বলেন, ‘‘রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই আর্থিক সাহায্য করেছে। জলপথ পরিবহণের অ্যাডমিনিস্ট্রেটরকে দায়িত্ব দেওয়া আছে। তিনি সমস্ত কিছু দেখে শীঘ্রই বেতন মিটিয়ে দেবেন। ইতিমধ্যেই বেশ কিছুটা বেতন দেওয়া হয়ে গিয়েছে।’’ বকেয়া বেতনও খুব শীঘ্রই পেয়ে যাবেন জলপথ পরিবহনের কর্মীরা এমনি আশ্বাস মন্ত্রীর।
এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ মুখ খুলতে চায়নি। তবে সূত্রের খবর, লকডাউনের কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল ফেরি চলাচল। এরপর চালু হলেও যাত্রী সেভাবে হচ্ছে না। এখনও পর্যন্ত লোকাল ট্রেন বন্ধ থাকার কারণে পর্যাপ্ত যাত্রী হচ্ছে না। এর জেরে প্রত্যহ বেশ কয়েক লক্ষ টাকা করে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে হুগলি নদী জলপথ পরিবহণ কর্তৃপক্ষকে। তাই বেতন নিয়ে এই জটিলতা।
তবে ইতিমধ্যেই রেল রাজ্য যৌথ বৈঠকে আগামী বুধবার থেকে ফের লোকাল ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রেন চললে যাত্রী হবে।আর্থিক মন্দ কাটিয়ে ফের ঘুরে দাঁড়াবে হুগলি নদী জলপথ পরিবহণ নিগম। তাই ফের আশায় বুক বাঁধছেন কর্মীরা।