
শেষ আপডেট: 28 January 2020 10:33
সামনেই মাধ্যমিক পরীক্ষা। যাতে পড়ার সময় নষ্ট না হয় তারজন্য গত কয়েক মাস ধরে টিফিনের আধঘণ্টা আর ছুটির পরে ঘণ্টাখানেক স্কুলে থেকে বাঁশের কাঠামোর উপর মাটির প্রলেপ দিয়ে একটু একটু করে গড়ে তুলেছে চার ফুটের সরস্বতী মূর্তি। অতনুর বন্ধুদের কয়েকজনও বাড়িয়ে দিয়েছে সাহায্যের হাত। এখন প্রতিমা তৈরির কাজ একেবারে শেষ পর্যায়ে। পড়াশোনার সময় নষ্ট না করে এমন দেবীমূর্তি বানিয়ে অতনু রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছে স্কুলের অন্য পড়ুয়া ও শিক্ষকদের।
শান্তিপুর থানার মহাপ্রভু পাড়ায় বাড়ি অতনুর। মূলত দরিদ্র তন্তুজীবী ও খেটে খাওয়া সম্প্রদায়ের বাস শান্তিপুরে। প্রচুর মানুষ জীবিকার জন্য তাঁতের কাজ করেন। আর অতনুর বাড়ি যেই এলাকায় সেখানে আশেপাশে প্রতিমা গড়েন অনেকেই। এই পাড়ায় থেকেই প্রতিমা তৈরির প্রতি তাঁর এই ঝোঁক বলে জানাল অতনু। তার কথায়, “স্কুলে যাওয়ার পথে সার দিয়ে দাঁড় করানো কাঠামোগুলিতে মাটির প্রলেপ পড়লেই, কেমন বদলে যেত। তারপর রং, সাজসজ্জা। দেবী মূর্তি তৈরিটাকে একটা গল্প বলে মনে হত। তারপর নিজেই একদিন মূর্তি তৈরি করতে বসলাম। কিছুটা শিখেছি, এখনও অনেকটা শিখতে হবে। আমার তৈরি করা মূর্তি দিয়ে এবার সরস্বতী বন্দনা হবে স্কুলে, ভাবতেই দারুন লাগছে। হেডস্যারের ইচ্ছেতেই এমন কাজ করতে পারলাম।”
স্কুলের প্রধানশিক্ষক অনুপ সাহা বলেন, “আমাদের স্কুলে ছবি আঁকা, ওয়াল পেইন্টিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের কাজের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। অতনুকে উৎসাহ দিতেই এ বার সরস্বতী পুজোয় মূর্তি তৈরির ভার দিয়েছি ওকে। এত সুন্দর কাজ করে। প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে জীবিকাও করতে পারে এই কাজকে। বাজারে এত বড় মূর্তির দাম কম করে পাঁচ হাজার টাকা। সেখানে কোনও পারিশ্রমিকই নেয়নি অতনু।”