দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট দিয়েছে সরকার। কিন্তু ছুড়ে ফেলে দেওয়া হচ্ছে তা। হোম কোয়ারেন্টাইনের নির্দেশ নিয়ে গ্রামে ঢোকা পরিযায়ী শ্রমিকদের গ্রামে থাকতে দেওয়া হচ্ছে না। পরপর এমন বেশ কয়েকটি ঘটনা সামনে আসার পর এলাকার মাতব্বরদের ঠেকাতে আইনের পথে হাঁটতে চলেছে স্বাস্থ্য দফতর।
করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলে তাঁকে যদি কোনওভাবে হেনস্থার মুখে পড়তে হয় বা পরিযায়ী শ্রমিকদের গ্রামে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাফ জানিয়ে দিলেন উত্তরবঙ্গের অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি সুশান্ত রায়।
সম্প্রতি জলপাইগুড়ি জেলার কয়েকটি ঘটনা স্বাস্থ্য দফতরের অন্দরে ঝড় তুলে দিয়েছে। যার জেরেই এবার নড়েচড়ে বসেছেন স্বাস্থ্যকর্তারা। সম্প্রতি ধূপগুড়ি ব্লকের আম্বাডিপা এলাকায় করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়ে গেলেও এক পরিযায়ী শ্রমিককে গ্রামে ঢুকতে বাধা দেন গ্রামবাসীদের একাংশ। খোলা আকাশের নীচে ত্রিপল টাঙিয়ে রাত কাটাতে বাধ্য হন তিনি।
ধূপগুড়ি পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডে কেরল থেকে আসা এক পরিযায়ী শ্রমিক বাড়িতে ঢুকতে পারেনি। পরিবার নিয়ে নদীর ধারে ঝোপ জঙ্গল ঘেরা এলাকায় ভরা বর্ষায় সাপের উপদ্রব উপেক্ষা করে ত্রিপল টাঙিয়ে রাত কাটাতে হচ্ছে তাঁকে।
ধূপগুড়ি ব্লকের ঝাড় আলতা গ্রামে স্বাস্থ্য দফতরের ছাড়পত্র নিয়েই বাড়ি ফিরেছিল দুই ভাই। সেখানেও এলাকাবাসী এসে তাঁদের ঘরে ঢুকতে বাধা দেয় বলে অভিযোগ। তাই বাড়ির পাশে পলিথিন দিয়ে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার বানিয়েছিলেন তাঁরা। সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় তাঁদের বাবার।
রাজগঞ্জের বৈকন্ঠপুরের জঙ্গল লাগোয়া মালিভিটা গ্রামে আন্দামান ফেরত এক পরিযায়ী শ্রমিক ও তাঁর ভাইকে গ্রামে ঢুকতে বাধা দেন বাসিন্দাদের একাংশ। স্বাস্থ্য দফতর হোম কোয়ারেন্টাইনের নির্দেশ দিয়েছিল আন্দামান ফেরত ওই যুবককে। গ্রামবাসীদের বাধায় হাতির হানার আতঙ্ক উপেক্ষা করে হাতি তাড়াবার টঙ ঘরে রাত কাটাতে হয় ওই যুবক ও তাঁর ভাইকে।
গত কয়েকদিন ধরে জলপাইগুড়ি সহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে ক্রমাগত এই ধরনের অভিযোগ আসছিল করোনা মোকাবিলায় উত্তরবঙ্গের অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি ডাক্তার সুশান্ত রায়ের কাছে। অবশেষে এবার মাতব্বরি ঠেকাতে আইন প্রয়োগের পথে হাঁটতে চলেছেন স্বাস্থ্য দফতর।
ডাক্তার সুশান্ত রায় জানান সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দিল্লি, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, মধ্যপ্রদেশ এবং গুজরাট এই পাঁচ রাজ্য ফেরত পরিযায়ী শ্রমিকরা প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে থাকবেন। আগে ছিল ১৪ দিন থাকার নিয়ম। এখন তা হয়েছে সাত দিন। তাদের মধ্যে যদি কারও করোনার উপসর্গ দেখা যায় তবেই তার করোনা পরীক্ষা করা হবে। নচেৎ নয়। বাকি অন্য রাজ্য ফেরত পরিযায়ী শ্রমিকরা ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনেই থাকবেন। এছাড়া যিনি হাসপাতালে ভর্তি থেকে করোনা রোগ সারিয়ে সুস্থ হয়েছেন তাঁকে আর করোনা রোগী বলা যাবে না। নিয়মানুযায়ী হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়ে বাড়ি ফিরে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইন থাকতে হবে সংশ্লিষ্ট রোগীকে।
তিনি বলেন, ‘‘আমরা বিভিন্ন ভাবে সচেতনতা প্রচার করেছি। আমরা এও বলেছি চাইলে আপনারা স্বাস্থ্য দফতরকে জানিয়ে নিজেদের উদ্যোগে কমিউনিটি বা পেইড কোয়ারেন্টাইন সেন্টার করুন। তাতে আপনার গ্রামের লোক বাড়ির কাছে থাকতে পারবেন। কিন্তু তাঁদের গ্রামে ঢুকতে না দিয়ে খোলা আকাশের নীচে রেখে দেওয়া মেনে নেওয়া যায় না। এবার থেকে নির্দিষ্ট অভিযোগ এলে আমরা পুলিশকে জানিয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।’’
দু’টি ঘটনায় তাঁরা ইতিমধ্যেই পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন বলেও জানান তিনি।