দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুরীর রথযাত্রায় শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। আজই প্রধান বিচারপতি শরদ অরবিন্দ বোবদের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার, ওড়িশা সরকার এবং পুরীর মন্দির কমিটি সমন্বয় করে সামাজিক দূরত্বের বিধি মেনে রথযাত্রা করতে পারে। তবে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, শুধু পুরীর রথের ক্ষেত্রেই এই অনুমতি কার্যকর হবে। বাকি আর কোথাও রথযাত্রা হবে না।
এই নির্দেশই মেনে চলছে অন্য সমস্ত রথ কমিটিও। এ রাজ্যের মাহেশের রথযাত্রা বেরোবে না এ বছর। পুরীর পরেই ভারতের দ্বিতীয় প্রাচীনতম মাহেশের রথ। এবার ৬২৪ বছরে পদার্পন করবে এই ঐতিহ্যের রথ। করোনা পরিস্থিতিতে সমস্ত ধর্মীয় উৎসব ও জমায়েত বন্ধ রাখার নির্দেশ আগেই দিয়েছিল কেন্দ্র। সেই নির্দেশ মেনেই পুরীর মন্দির কর্তৃপক্ষের পরে মাহেশের জগন্নাথ মন্দির কর্তৃপক্ষও রথযাত্রা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল গত মাসেই।
আজ পুরীর রথযাত্রার অনুমতি মিললেও, মাহেশের সিদ্ধান্তে কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না। মাহেশের জগন্নাথ মন্দিরের সেবায়েত পিয়াল অধিকারী জানান, পুৱীর সঙ্গে তাঁদের কোনও সম্পর্ক নেই। মাহেশের রথ এ বার বেরোবে না বলে আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তাঁরা, সেই সিদ্ধান্তই থাকছে। অনুমতি মিললেও তা বদলাত না। কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, "আমাদের এখানে মার্টিন বার্ন কোম্পানির তৈরি ১২৫ টন ওজনের লোহার রথ। কম লোক দিয়ে তা টানা সম্ভব নয়। লোকজনের ভিড় হবেই। তাই আগেই সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে রথযাত্রা এবার হবে না। সামনের বছর সব ঠিক হলে আবার রথযাত্রা হবে।"
পিয়াল অধিকারী আরও জানান, সমস্ত নিয়ম আচার মেনেই পুজো হবে। সকাল আটটায় গর্ভগৃহ থেকে জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রাকে নিয়ে এসে মন্দিরের চাতালে রাখা হবে। সেখানে মন্দিরের সঙ্গে যুক্ত বিশিষ্ট জন ও সেবাইত-সহ মোট ২৫ জনকে ভিতরে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। নির্ঘণ্ট মেনে পুজোর পরে মন্দিরের পিছনে ধ্যানকক্ষের মাসিরবাড়িতেই এবার রাখা হবে বিগ্রহ। শুধু নারায়ণ শীলা নিয়ে যাওয়া হবে এক কিলোমিটার দূরে আসল মাসিরবাড়ি মন্দিরে। সেখানে ৯ দিন থাকার পরে শীলা ফিরিয়ে নিয়ে আসা হবে । এর পরেই আবার গর্ভগৃহে প্রতিষ্ঠা করা হবে জগন্নাথ সুভদ্রা ও বলরামকে।
প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষের জমায়েত হয় মাহেশে। মন্দিরে জগন্নাথ বলরাম সুভদ্রার দারুকাঠের মূর্তিতে পুজো দিতে ভিড় উপচে পরে ভক্তদের। মেলা বসে স্নানপিড়ির মাঠে। জমজমাট থাকে উল্টো রথ পর্যন্ত। মাহেশের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে হরেক গল্পকথাও। ইতিহাস বলে, পুরীতে যাওয়ার পথে মাহেশের জগন্নাথ মন্দিরে এসেছিলেন স্বয়ং মহাপ্রভু চৈতন্যদেব। পুরীকে বলা হয় নীলাচল। চৈতন্যদেব মাহেশকে ‘নব নীলাচল’ বলে আখ্যা দেন।
এবার সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার কারণে এই সমস্তই বন্ধ থাকবে রথে। নিয়ম মেনে পুজোটুকু সারা হবে। রথ বেরোবে না মাহেশে।