
শেষ আপডেট: 29 September 2020 13:38
আন্দোলনকারীরা ওই এলাকায় না গিয়ে ফায়ার ব্রিগেড অফিস সংলগ্ন এলাকায় সঙ্গীত পরিবেশন করে মাঠ ঘেরার প্রতিবাদ করেন। মেলার মাঠ পাঁচিল দিয়ে ঘিরে দেওয়া নিয়ে গত ১৭ অগস্ট তোলপাড় হয়েছিল বিশ্বভারতী। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মেলার মাঠ ঘেরার উদ্যোগ নিতেই বাধা দেয় স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের একাংশ। ১৭ অগস্ট নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় গোটা পরিস্থিতি। বিক্ষোভ কার্যত তাণ্ডবে পরিণত হয় ওইদিন। পাঁচিল তৈরির জন্য আসা ঠিকাদারের লোকজনদের উপর চড়াও হন এলাকার বাসিন্দারা। ভাঙচুর করা হয় একটি গেট। পাঁচিলের জন্য মাটি কেটে যে গর্ত করা হয়েছিল তা মাটি ফেলে বুজিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। সব মিলিয়ে তুলকালাম কাণ্ড বাধে বিশ্বভারতীতে।
পৌষ মেলার মাঠে পাঁচিল দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিশ্বভারতী যখন রীতিমতো উত্তপ্ত সেই সময় ২৩ অগস্ট কর্তৃপক্ষের একটি বিস্ফোরক প্রেস বিবৃতি প্রকাশ্যে আসে। যে বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রার তথা জনসংযোগ আধিকারিক লিখেছেন, পৌষ মেলার মাঠে পাঁচিল দেওয়ার অন্যতম কারণ বহিরাগতদের আনাগোনা। শুধু তাই নয়, ওই মাঠের একটি নির্দিষ্ট অংশে কী কী কাজ কারবার চলে তাও উল্লেখ করা হয় ওই বিবৃতিতে। বিশ্বভারতীর লেটার হেডে ছাপা বিবৃতিতে লেখা হয়, “পৌষ মেলার মাঠে বিপজ্জনক কাজকর্ম চলে। সেখান থেকে পাওয়া গিয়েছে মদের বোতল এবং ব্যবহার করা কন্ডোম।” শুধু তাই নয়। পৌষ মেলার একটি অংশ যৌনক্রিয়ার মৃগয়া ক্ষেত্রেও পরিণত হয়েছে বলে ওই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এই সমস্ত কারণেই যে মেলার মাঠে পাঁচিল দেওয়া জরুরি সেটাই বলা হয় বিশ্বভারতীর ওই প্রেস বিবৃতিতে।
ইতিমধ্যে গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিশ্বভারতী নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত এক মামলায় প্রধান বিচারপতি টিবি রাধাকৃষ্ণনের বেঞ্চ দুই বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি চার সদস্যের কমিটি গড়ে দেয়। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, বিশ্বভারতীতে এখনই কোনও নির্মাণ বা ভাঙার কাজ করা যাবে.না। যা করতে হবে সবটাই চার সদস্যের কমিটির তত্ত্বাবধানে করতে হবে। হাইকোর্ট আরও নির্দেশ দেয়, ভূমি রাজস্ব দফতরকে জমি মাপার কাজ করতে হবে। বিশ্বভারতীর জায়গা চিহ্নিত হওয়ার পর তা কাঁটাতার দিয়ে ঘিরতে হবে।
অনেক টানাপড়েনের পর সোমবার থেকে শুরু হয় সেই ঘেরার কাজ। পাশাপাশি জারি রয়েছে এলাকার মানুষের প্রতিবাদও। তবে ধরণ বদলেছে প্রতিবাদের।