বাস না চলায় রুটিরুজিও বন্ধ, অন্য গাড়ির চালকদের কাছে সাহায্য চাইছেন ঝাড়গ্রামের বাসকর্মীরা
দ্য ওয়াল ব্যুরো, ঝাড়গ্রাম : লকডাউনের জেরে দীর্ঘদিন বন্ধ বাস চলাচল। জীবিকা বন্ধ থাকায় আয়ের পথও বন্ধ বেসরকারি বাসের চালক ও কর্মীদের। তাই বাধ্য হয়েই পথে নামলেন তাঁরা। ঝাড়গ্রাম-বাঁকুড়া পাঁচ নম্বর রাজ্য সড়কের জামদা এলাকায় বৃহস্পতিবার তাঁদেরই
শেষ আপডেট: 11 June 2020 09:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো, ঝাড়গ্রাম : লকডাউনের জেরে দীর্ঘদিন বন্ধ বাস চলাচল। জীবিকা বন্ধ থাকায় আয়ের পথও বন্ধ বেসরকারি বাসের চালক ও কর্মীদের। তাই বাধ্য হয়েই পথে নামলেন তাঁরা। ঝাড়গ্রাম-বাঁকুড়া পাঁচ নম্বর রাজ্য সড়কের জামদা এলাকায় বৃহস্পতিবার তাঁদেরই দেখা গেল পথচলতি অন্য গাড়ির চালকদের কাছে সাহ্যয্যের প্রত্যাশী হতে। কেউ স্বেচ্ছায় তাঁদের হাতে তুলে দিলেন ১০ টাকা। কেউ তুলে দিলেন ২০ টাকা। তাতেই বা কতদিন চলবে? উত্তর অবশ্য জানা নেই।
আনলক ওয়ানে খুলেছে সরকারি-বেসরকারি অফিস। তাই রাস্তায় বাস চালানোর অনুমতি দিয়েছে রাজ্য সরকার। তবে বেসরকারি বাস মালিকদের দাবি মতো বাসভাড়া বাড়েনি। এই পরিস্থিতিতে রাস্তায় ঠিকমতো যাত্রী না থাকায় এবং বাসের ন্যূনতম খরচ না ওঠার কারণ দেখিয়ে পথে বাস নামাননি ঝাড়গ্রাম জেলার অধিকাংশ বাস মালিক। ফলে কর্মহীন হয়ে বাড়িতে বসে থাকতে হচ্ছে বেসরকারি বাসের কর্মচারীদের। সংসার চালানোর তাগিদে কোনও চালক পণ্যবাহী গাড়ি চালাচ্ছেন। কোনও কন্ডাক্টর এবং হেল্পার রাজমিস্ত্রির কাজ বা কাঠের কাজ করছেন। সবাই যে কাজ পেয়েছেন তেমনও নয়।

এই গভীর আর্থিক সংকট সবার নজরে আনতে ঝাড়গ্রাম জেলা বাস পরিবহণ শ্রমিকবৃন্দ নামে একটি সংগঠন তৈরি করেছেন তাঁরা। জেলা সম্মেলনও করারও লক্ষ্য রয়েছে তাঁদের। বুধবার ঝাড়গ্রামের জেলাশাসকের কাছে ৫০ শতাংশ মজুরি চেয়ে এবং ১০০ দিনের আওতায় কাজ দেওয়ার আর্জি জানিয়ে স্মারকলিপি জমা দেন তাঁরা। তাঁদেরই একজন সুশান্ত সৎপতি বলেন, ‘‘প্রায় দু’মাস হয়ে গেল আমাদের কাজ নেই। অনেকের সংসার চলছে না। এই সমস্ত বাস কর্মচারীদের সাহায্য করতে এবং আমাদের জেলা সম্মেলন করার জন্য পথ চলতি গাড়ির চালকদের কাছ থেকে সাহায্য চাইছি। সবাই খুশি মনে ১০ টাকা, ২০ টাকা সাহায্য করছে।’’
আরেক বাস কর্মচারি স্বরূপানন্দ রানা বলেন, ‘‘পেটের দায়ে পথে এসে দাঁড়িয়েছি আমরা। কারও কাজ নেই। টাকা নেই। বাধ্য হয়েই অন্য গাড়িচালকদের থেকে সাহায্য চাইছি। একেবারে স্বেচ্ছায় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন অনেকেই।’’
একসময় হলদিয়া-খাতড়া রুটের গীতাঞ্জলি নামের দূরপাল্লার বেসরকারি বাসের চালক ছিলেন বাপি বেরা। বাস বন্ধ থাকায় এখন সংসার চালাতে বালির গাড়ি চালাচ্ছেন। বললেন, ‘‘খুব বুঝতে পারছি সবার কী অবস্থা! আমিও তো বাধ্য হয়ে বালির গাড়ি চালাচ্ছি।’’