দ্য ওয়াল ব্যুরো, ঝাড়গ্রাম: লকডাউন। তাই খাঁ খাঁ করছে রাস্তা। কোনও যাত্রীবাহী গাড়ি নেই। ঝাড়গ্রাম শহরের বুকে যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম টোটোও পুরোপুরি বন্ধ। পোস্ট অফিস থেকে বিধবা ভাতার টাকা তুলতে বুধবার বাড়ির বাইরে বেরিয়েছিলেন ৭২ বছরের এক বৃদ্ধা । হয়তো ভেবেছিলেন প্রতিবার পেনশন তুলতে যাওয়ার সময় যেভাবে টোটো করে যান, সেভাবেই যাবেন। কিন্তু রাস্তায় বেরিয়েই ভুল ভাঙে। শুনশান রাস্তায় কোনও টোটোর দেখা নেই।
দিন গুজরানের জন্য বিধবা ভাতার ক’টা টাকা খুব দরকার। টোটো না পেয়ে তাই পায়ে হেঁটেই পোস্ট অফিসের দিকে রওনা হন ওই বৃদ্ধা। কিন্তু খানিকটা হাঁটতেই তীব্র গরমে হাঁসফাঁস হয়ে ওঠে শরীর। অসুস্থ বোধ করতে থাকেন ওই বৃদ্ধা। এ সময় রাস্তায় টহল দিচ্ছিলেন জেলা পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর স্বপন গড়াই। বৃদ্ধাকে দেখেই ছুটে যান তিনি। বৃদ্ধার কাছ থেকে জানতে পারেন বিধবা ভাতার টাকা তোলার জন্য পোস্ট অফিসের দিকে রওনা হয়েছেন তিনি। কিন্তু রাস্তায় কোনও টোটো না পাওয়ায় মুশকিলে পড়ে যান। একথা জানার পরেই ওই বৃদ্ধাকে নিজের মোটরবাইকে করে ঝাড়গ্রাম হেড পোস্ট অফিসে নিয়ে যান ওই পুলিশ আধিকারিক।
জানা গিয়েছে, ঐ বৃদ্ধার নাম ঝর্না সাহা। ঝাড়গ্রাম শহরের বাজার এলাকায় তাঁর বাড়ি। বহুদিন আগেই মারা গিয়েছেন স্বামী। বিয়ে হয়ে গেছে দুই মেয়ের। এখন একাই থাকেন। প্রতিমাসে বিধবা ভাতার যে টাকা পান তা দিয়েই কোনওমতে চলে যায় তাঁর। ঝর্ণাদেবী বলেন, ‘‘আমি বাড়িতে একাই থাকি। নিজের কাজ সব নিজেই করি। আজ ভাতার টাকা তুলতে যাচ্ছিলাম। লকডাউন চলছে জানি। তবু বুঝতে পারিনি রাস্তায় বেরিয়ে কোনও গাড়ি পাব না। পায়ে হেঁটে অতদূর যেতে খুব কষ্ট হচ্ছি্ল। ওই পুলিশকর্মী নিজে থেকে এগিয়ে এসে আমাকে পোস্ট অফিসে পৌঁছে দিলেন। মা বিপত্তারিণী সবসময় ওঁকে রক্ষা করুক।’’
ঝাড়গ্রাম জেলা পুলিশের গোয়েন্দাবিভাগে কর্মরত স্বপনবাবু। এই বিষয়ে বিশেষ কিছু বলতে চাননি তিনি। শুধু বলেন, ‘‘আমার বাড়িতেও বয়স্ক মানুষ আছেন। দূরে কোথাও হেঁটে যেতে হলে তাঁদের কতটা কষ্ট বুঝতে পারি। ওঁকে পোস্ট অফিসে পৌঁছে দিতে পেরে আমিও খুব আনন্দিত।’’