দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: দিনভর নানা লোকের আনাগোনায় ব্যস্ত থাকে ফাঁড়ি চত্বর। তারই মাঝে তার জন্য নির্দিষ্ট জায়গায় নিজের মনে নিঃশব্দে বিচরণ করে টাইগার। সারাদিন শত কাজের মধ্যেও টাইগারের তোয়াজ করতে ভোলেন না কর্তব্যরত পুলিসকর্মীরা। আসলে আউশগ্রামের গুসকরা ফাঁড়িতে আসা নতুন অতিথির যত্নে যে কোনও খামতিই রাখতে চান না তাঁরা।
মাস দু'য়েক আগে বর্ধমান সিউড়ি ২বি জাতীয় সড়কের পাশে গুসকরা ফাঁড়ির সামনে একটি বাচ্চা ঘোড়াকে ঘুরে বেড়াতে দেখেন পুলিশকর্মীরা। তারপরেই তাঁরা ওই ঘোড়ার মালিকের সন্ধানে চারপাশে খোঁজখবর শুরু করেন। কিন্তু শেষমেশ মালিকের সন্ধান না মেলায় ঘোড়াটির আস্তানা হয়ে ওঠে গুসকরা ফাঁড়ি চত্বর। পুলিশ ব্যারাকের অদূরে গাড়ি রাখার জন্য তৈরি করা একটি ছাউনির নীচে এখন দিব্যি দিন কাটছে ঘোড়াটির। থানার কর্মীরা আদর করে তার নাম রেখেছে টাইগার। সেই নামে ডাকলেই দিব্যি মাথা নেড়ে সাড়া দেয় সে।
গুসকরা ফাঁড়ির আস্তানায় আসার পরে পুলিশ কর্মীরা দেখেন ঘোড়াটির কেশরের কাছে একটি বড় ক্ষত। তাঁদের অনুমান ভারী কিছু দিয়ে সেখানে আঘাত করা হয়েছিল। কিন্তু ফাঁড়ির পুলিসকর্মীদের যত্নে এখন পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেছে সে ।
পুলিশের গাড়ি চালান গুসকরার বাসিন্দা নাসির শেখ। এখন দায়িত্ব বেড়েছে তাঁর। কারণ টাইগারের দেখভালও যে করেন নাসির। ফাঁড়ির গাড়ি চালানোর অবসরে টাইগারকে দেখভালের দায়িত্বও নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন তিনি। নাসিরের কথায়, কুঁড়ো, ভুসি ও ছোলা নাকি টাইগারের প্রিয় খাবার! তাছাড়া গুড়জল ও ঘাসও খায় টাইগার। রুটিন মাফিক তার সামনে খাবার তুলে দেন নাসির। কখনো কুঁড়ো, ভুসি ভিজিয়ে মেখে দেওয়া হয় টাইগারকে। আবার কখনও শুকনো ভুসির সঙ্গে দেওয়া হয় ভেজানো ছোলা। যা পেয়ে অনেক সময়েই নাসিরের দিকে সামনের পা জোড়া তুলে দিয়ে দাঁড়ায় টাইগার।
নাসির বলেন, ‘‘পুলিশের চাকরির এত চাপ। তারমধ্যেই টাইগারকে নিয়ে কীভাবে যে সময় পেরিয়ে যায় বুঝতেই পারি না। এটুকু সময়ের মধ্যেই ফাঁড়ির সবার আপনার জন হয়ে গিয়েছে টাইগার।’’