দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: করোনা সংক্রমণ রুখতে সবাইকে ঘরে থাকার বার্তা দিতে রাজ্যের সর্বত্র পথে নেমেছে পুলিশ। লকডাউন ভাঙা জনতাকে শায়েস্তা করতে লাঠি হাতে পুলিশের ছবি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। এরই পাশাপাশি ধরা পড়ল পুলিশের তৎপরতার আরেক ছবিও।
কেউ দিলে যাঁদের খাবার জোটে, তাঁদের সংখ্যাটা আমাদের দেশে নেহাত মন্দ নয়। লকডাউনের খবরে সাধারণ মানুষ নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খাবার সংগ্ৰহ করে নিলেও, পারেননি ভবঘুরেরা। অন্যদিন মানুষের দয়ার দানে চললেও প্রায় চারদিন অভুক্ত থাকার পর কাটোয়া শহরের সেই ভবঘুরেরাই বৃহস্পতিবার দুপুরে পেটভরে খিচুড়ি আর পাঁচমিশেলি তরকারি খেলেন পুলিশের সৌজন্যে।
লকডাউনে শুনশান রাস্তা। অমান্য করে রাস্তায় চলাচল করছিলেন যে গুটিকয়েক মানুষ, পুলিশের মারের ভয়ে তারাও কার্যত ঘরবন্দি। সেই অবস্থায় সহায় সম্বলহীন ভবঘুরেদের খাবার দেবে কে? কার্যত চারদিন যাবৎ অভুক্ত ভবঘুরেরা। খবর পেয়ে কাটোয়া থানার আইসি বিকাশ দত্ত ওই সমস্ত ভবঘুরেদের মুখে দুবেলা খাবার তুলে দেওয়ার দায়িত্ব গ্রহণ নিলেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে দেওয়া হল খিচুড়ি, পাঁচমিশেলি সবজি। সঙ্গে জল।
করোনার সংক্রমন যাতে না ছড়ায় সেই কথা মাথায় রেখে খাবার দেওয়ার আগে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে প্রত্যেকের হাত পরিষ্কার করার কাটোয়া থানার পুলিশ। দুপুরে কাটোয়া শহর জুড়ে ঘুরে ঘুরে ভবঘুরেদের খাওয়ানো হয়। রাতে স্টেশন চত্বরে জমা হতে বলা হয়েছে সমস্ত ভবঘুরেদের। কাটোয়া থানার আইসি বিকাশবাবু বলেন, যে সমস্ত জায়গা থেকে প্রতিদিন খাবার পান এঁরা সেই সমস্তই লকডাউনের জেরে বন্ধ। গত চারদিন ধরে প্রায় কিছুই না খেয়ে ছিল এই মানুষগুলো। আজ দুপুরে খিচুড়ি দেওয়া হয়েছে তাঁদের। সন্ধে সাতটায় আবার ভাত,ডাল, তরকারি দেওয়া হবে।’’
চারদিন পর খাবার পেয়ে চোখের জল মুছতে মুছতে পুলিশকে আশীর্বাদ করলেন প্রদীপ কর্মকার, সান্তনা দাস, রুমকি সিংহরা। কাটোয়ার মানুষও দেখল পুলিশের মানবিক মুখ।
মেদিনীপুর শহরেও এদিন ভবঘুরেদের খাবার দেওয়ার ব্যবস্থা করে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ।