দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: পাহাড়পুর এলাকায় জাতীয় সড়কের ধারে ডেরা বেঁধেছিল বানজারাদের দল। লকডাউন হতেই সমস্যায় পড়ে যায় তারা। পরে জলপাইগুড়ি ব্লক প্রশাসনের উদ্যোগে রানিনগর হাইস্কুলের ঘরে থাকার ব্যবস্থা করা হয়। তখন থেকেই সেখানে থাকছেন বাচ্চা ও বড় মিলিয়ে ৫৫ জন। তাঁদের খাওয়া দাওয়া সবই দিচ্ছে প্রশাসন।
কিন্তু আকাশই যাঁদের ঘরের ছাদ, তাঁদের পক্ষে বদ্ধ ঘরে নিজেদের আটকে রাখা কতক্ষণ সম্ভব? তাই মন খারাপ। সেই আভাস মিলতেই রানিনগর স্কুলে হাজির জলপাইগুড়ির কোতোয়ালি থানার পুলিশ। আইসি বিশ্বাশ্রয় সরকারের নেতৃত্বে পুলিশ কর্মীরা গিয়ে ৫৫ জনকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ফাঁকা ফাঁকা করে স্কুলের মাঠে বসান। তারপরেই শুরু হয় ম্যাজিক শো।
মইনুল হক নামে এক পুলিশ কর্মী একের পর এক জাদু দেখিয়ে মনোরঞ্জন করেন ছেলেবুড়ো সবার। কখনও যাদু ঝুলিতে ১০ টাকার নোট ফেলতেই বেরিয়ে এল মাস্ক, কখনও রুমাল হয়ে গেল ফুলের মালা। যাদু দেখে চোখ-মুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে সবার। হাততালিতে ফেটে পরে মাঠ। শেষে তাঁদের হাতে খাবারও তুলে দেন পুলিশ কর্মীরা। বিশ্বাশ্রয়বাবু বলেন, ‘‘গোটা সমাজের স্বার্থেই জাতীয় সড়কের ধার থেকে যাযাবর সম্প্রদায়ের এই মানুষদের আনা হয় এই স্কুলে। খাবার, থাকার জায়গা সবকিছুরই ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পাশাপাশি চলছিল মারণ ভাইরাস করোনা নিয়ে সচেতন করার কাজ। কিন্তু ঘরে থাকতে যে তাঁরা অভ্যস্ত নন, সেটাও মাথায় রাখতে হবে আমাদের। ওঁদের বাচ্চারা কেউ মাঠে বেরিয়ে খেলাধুলে করতে পারছে না। এতে মানসিক সমস্যা তৈরি হচ্ছিল ওঁদের। তাই সবার মন ভাল করতে ম্যাজিক শো দেখানোর ব্যবস্থা করি। কিছুটা সময় তো ভাল কাটল।’’
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে গত কয়েক দিন ধরেই রাজ্যজুড়ে সচেতনতা প্রচার চালাচ্ছে পুলিশ। গান গেয়ে বাসিন্দাদের সতর্ক করার ছবি নজরে আসছে বারবার। সাড়াও মিলছে। এ বার নতুন দিশা দেখাল জলপাইগুড়ির কোতোয়ালি থানা।