দ্য ওয়াল ব্যুরো, নদিয়া: লকডাউনের জেরে বন্ধ রইল নবদ্বীপের সুপ্রাচীন পোড়ামায়ের অভিষেকের বিভিন্ন অনুষ্ঠান। হল শুধু নিয়মরক্ষার পুজো।
বৈষ্ণবতীর্থ নদিয়ায় স্নানযাত্রার দিন মহা ধূমধামে অনুষ্ঠিত হয় এই অভিষেক। হাজার হাজার ভক্ত শোভাযাত্রা করে গঙ্গার জল নিয়ে আসেন। ১০৮ ঘড়া গঙ্গার জলের সঙ্গে দুধ মিশিয়ে ধর্মীয় রীতি মেনে গ্রাম্যদেবী পোড়ামায়ের অভিষেক হয়। অন্য অনেক পুজো পার্বণের মতো এই অভিষেক উৎসবের রং ও ফিকে।
পোড়া মায়ের আবির্ভাব নিয়ে নানান গল্প কথা ছড়িয়ে রয়েছে নবদ্বীপে। মূলত বৈষ্ণব সাধকদের পীঠস্থান এই নবদ্বীপ। এখানকার পুরাতত্ত্ব পরিষদের সম্পাদক শান্তিরঞ্জন দেব জানান, অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি নদিয়ার মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের অধীনে ছিল নদিয়া জেলা। আজ যেখানে পোড়ামায়ের বিগ্রহ, সেই প্রাচীন বটবৃক্ষের নিচেই ছিল সংস্কৃত চর্চার প্রাণকেন্দ্র। এখানে বসত তর্ক-বিতর্ক ও আলোচনা সভা।
পাশাপাশি প্রতিবছর রাশের সময় নবদ্বীপের সমস্ত বিগ্রহ নিয়ে আসে এখানে জড়ো করা হতো। তারপর মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র সেই সব বিগ্রহ দেখে পুরস্কৃত করার পর শোভাযাত্রা করে নবদ্বীপ শহর প্রদক্ষিণ করা হত। একবার কোনও এক অজানা কারণে প্রাচীন বটগাছটিতে আগুন ধরে যায়। গঙ্গা জল দিয়ে নেভানো হয় সেই আগুন। পরে প্রাচীন এই বটগাছের নিচেই প্রতিষ্ঠিত হয় কালীর মূর্তি। সেই থেকেই এর নাম হয়েছে পোড়ামা।
বহুকাল ধরে স্নানযাত্রার পুণ্য তিথিতে হাজার হাজার ভক্ত শোভাযাত্রা করে গঙ্গার জল নিয়ে আসেন। সেই জল আর দুধ মিশিয়ে ধর্মীয় রীতি মেনে গ্রাম্যদেবী পোড়ামা মাতার অভিষেক হয়। এ বারও নিয়ম মেনে হয় বিশেষ পুজোপাঠ। এবার লকডাউনে বন্ধ মন্দিরের প্রবেশদ্বার। তবুও কিছু ভক্ত মন্দির গেটে রেখে যাচ্ছেন ফুলের মালা এবং ভোগ। কেউ কেউ মন্দিরের গেটেই ভক্তি ভরে দেবীর নামে পুজো উৎসর্গ করছেন।
পোড়ামা মন্দিরের সেবায়েত মানিকলাল ভট্টাচার্য জানালেন, প্রতিবছর এই দিনে গঙ্গা থেকে শোভাযাত্রা করে ভক্তরা নিয়ে আসেন গঙ্গার জল। এবার লকডাউনে সব বন্ধ। পুরোহিতরা নিজেরাই গঙ্গা থেকে পাঁচ কলসি গঙ্গার পবিত্র জল এনেছেন। সেই জল মাটির ১০৮টি কলসিতে ভরে স্নানযাত্রার পুণ্য লগ্নে দেবীর অভিষেক হয়। তিনি বলেন, ‘‘লকডাউনের জন্য এদিন বিশেষ কিছু অনুষ্ঠান হচ্ছে না। শুধু প্রথা মেনে চাল কুমড়ো বলির পাশাপাশি কিছু আচার অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে দেবীর অভিষেক করা হচ্ছে।’’