দ্য ওয়াল ব্যুরো, কোচবিহার: অনেকেই ভাবছিলেন কাজটা করার কথা, কিন্তু করছিলেন না কেউ। শেষমেষ বেড়ালের গলায় ঘণ্টাটা তিনিই বাঁধলেন। সোমবার সপ্তাহের শুরুতে সাংবাদিক বৈঠক করে এমনটাই দাবি করলেন কোচবিহারের বিদ্রোহী বিধায়ক মিহির গোস্বামী। একই সঙ্গে তিনি জানিয়ে দিলেন তৃণমূলে আর ফিরবেন না কোনওদিনই।
দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে অক্টোবরের গোড়াতেই সাংগঠনিক সমস্ত দায়িত্ব ছেড়েছিলেন মিহিরবাবু। তখন থেকেই খবরের শিরোনামে তিনি। এরপর থেকেই কখনও বিজেপি সাংসদ নিশীথ প্রামাণিকের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করে, কখনও রাজ্যের মন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা না করে তাঁদের ফিরিয়ে দিয়ে, কখনও দলের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সোশ্যাল সাইটে আলাদা অ্যাকাউন্ট খুলে, কখনও পিকের আইপ্যাককে ঠিকাদার থিঙ্কট্যাঙ্ক বলে খবরে থেকেছেন তিনি। মাঝখানে কয়েকটা দিন আড়ালে থাকার পর সোমবার ফের নিজের কার্যালয়ে এসে সাংবাদিক বৈঠক করলেন কোচবিহার দক্ষিণ বিধান সভার তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়ক মিহিরবাবু। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এ দিনও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তৃণমূলের এই বর্ষীয়ান নেতা।
সম্প্রতি এক কর্মিসভায় দিনহাটার তৃণমূল বিধায়ক উদয়ন গুহ দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ করে বলেছিলেন, ‘‘অনেক খেয়েছেন। আবার খাবেন। তবে এখন ছয় মাস খাওয়া বন্ধ রাখুন। এখন মানুষের খাবার মানুষকে খেতে দিন। এবার মানুষের খাবার কেড়ে নিলে মানুষ পরবর্তীতে আর খাবার সুযোগ দেবে না ।’’ সেই প্রসঙ্গ টেনে মিহিরবাবু বলেন, ‘‘একজন বিধায়কের মুখে এমন কথা মানায় কি? যারা কর্মীদের দিকে আঙুল তোলেন তাঁদের নিজের দিকটা দেখা দরকার।’’
শুভেন্দু অধিকারির প্রসঙ্গ উঠলে মিহিরবাবু বলেন, ‘‘শুভেন্দুর বাবা শিশির অধিকারীর সঙ্গে আমার ৪০ বছরের সম্পর্ক। বেড়ালের গলায় ঘণ্টা কে বাঁধবে, তৃণমূলের অন্দরে অনেকেই ভাবছিলেন সে কথা। আমি সেটাই বেঁধে দিয়েছি।’’
অক্টোবর মাসের ৩ তারিখ দলের সব দায়িত্ব কর্তব্য থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন মিহিরবাবু। আজ জানালেন নিজের ভবিষ্যত ভাবনা। বললেন, ‘‘অনেকেই আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। বিজেপির সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক বাড়িতে এসেছিলেন। তাঁর সঙ্গে অনেক কথা হয়েছে। এখন ঠিক করিনি। মানসিক প্রস্তুতি নিলে জানাব।’’ তবে তিনি যে তৃণমূলের সঙ্গে আর কোনও সংশ্রব রাখবেন না তা স্পষ্ট করে দিলেন এদিন।