মৃন্ময় পান, বাঁকুড়া: চাকরি দেওয়ার নাম করে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ উঠল বিষ্ণুপুর পুরসভার এক অস্থায়ী কর্মীর বিরুদ্ধে। বিষ্ণুপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন প্রতারিতরা। এরপর তাঁদেরই তৎপরতায় অভিযুক্তকে আটক করে বিষ্ণুপুর থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিষ্ণুপুর পুরসভার নাইট গার্ড ছিলেন কাঞ্চন দাস। বিষ্ণুপুরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের ঢেলাদুয়ারের বাসিন্দা তিনি। প্রতারিতদের দাবি, বিষ্ণুপুর পুরসভার চেয়ারম্যান ও অন্যান্য কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠ, এই তকমাকে কাজে লাগিয়ে হাসপাতালে চাকরি করে দেওয়ার নাম করে দফায় দফায় বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে টাকা নেন কাঞ্চন। বিষ্ণুপুর পুরএলাকার বিভিন্ন মানুষজনের কারও থেকে পাঁচ হাজার, কারও থেকে দশ হাজার এমনকি ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করে ওই ব্যক্তি।
দীর্ঘদিন ধরে চাকরি না পেয়ে ওই যুবকের থেকে টাকা ফেরত নেওয়ার চেষ্টা করেন প্রতারিতরা। কিন্তু সে চেষ্টাও ব্যর্থ হয়। বাড়ি থেকে গা ঢাকা দেওয়ায় টাকা আদায় করতে পারেননি তাঁরা। শেষমেষ ওই যুবককে ফাঁদ পেতে ধরার কৌশল অবলম্বন করে সফল হলেন প্রতারিতরা। আজ সকালবেলায় ওই যুবককে ফোন করে টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে এনে আটকে রাখেন তাঁরা। পরে বিষ্ণুপুর থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় তাঁকে। বিষ্ণুপুর থানায় অভিযুক্ত কাঞ্চন দাসের বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেছেন কবরডাঙা এলাকার মানুষজন।
বিষ্ণুপুর পুরসভার চেয়ারম্যান শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী বলেন, ‘‘অভিযুক্ত যুবক কাঞ্চন সকলের পরিচিত ঠিকই। তবে প্রায় ছ’মাস আগে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে চাকরি করে দেওয়ার নাম করে টাকা তোলার মৌখিক অভিযোগ পেয়ে পুরসভা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয় তাকে। এমনকি নাইট গার্ডের চাকরি থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে কাঞ্চনকে।’’
বিষ্ণুপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।