দ্য ওয়াল ব্যুরো, বীরভূম: একশো দিনের কাজের কাটমানি না দিতে চাওয়ায় এক বয়স্ক মহিলাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাল দুষ্কৃতীরা। ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের লোকপুর থানার বনকাটা গ্রামে।
আক্রান্ত মহিলা ও তাঁর পরিবারের দাবি, তৃণমূল আশ্রিত কিছু দুষ্কৃতী একশো দিনের কাজের টাকা পেতেই কাটমানি চাইতে এসেছিল। তা না দেওয়ায় মাথায় ধারালো অস্ত্রের কোপ মারা হয়েছে। ওই মহিলা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এদিকে তৃণমূল তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, এই ঘটনা পারিবারিক বিবাদের জের। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে বুধবার রাতে ছেপি বাউড়ি নামে এক ৬০ বছর বয়সের ওই মহিলার মাথায় ধারালো অস্ত্রের কোপ মারা হয়। তাঁর দাবি, দুষ্কৃতীরা তৃণমূল আশ্রিত। একশো দিনের কাজের মজুরি বাবদ কিছু টাকা পেয়েছিলেন তিনি। সেই টাকা থেকে কিছু অংশ দাবি করে ওই দুষ্কৃতীরা। টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাঁকে মারধর করা হয়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপান হয়।
মহিলাকে প্রথমে স্থানীয় নাকরাকোন্দা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে রেফার করা হয়। আক্রান্ত মহিলার ছেলে রমেশ বাউরি বলেন, ‘‘কয়েকজন তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী মায়ের কাছে একশো দিনের টাকার ভাগ চাইতে এসেছিল। টাকা দিতে অস্বীকার করায় মায়ের মাথায় কোপ মারা হয়েছে।’’
যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সহ-সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘এই ঘটনাটি সম্পূর্ণ পারিবারিক গন্ডগোলের জের। অভিযুক্তরা কোনওভাবেই তৃণমূলের নয়। পুলিশকে বলা হয়েছে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে।’’
বীরভূম জেলা বিজেপির সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল বলেন, ‘‘কাটমানির সরকার চলছে বর্তমানে রাজ্যে। চারিদিকে চলছে শুধু অরাজগতা। দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত শাস্তি গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। আক্রান্ত পরিবারের পাশে আছি আমরা।’’