দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: মরতে মরতে বেঁচে ফিরলেন ফাগু ওঁরাও। কিং কোবরার মুখোমুখি হয়ে প্রাণবায়ু বার হওয়ার জোগাড় হয়েছিল তাঁর। বেঁচে গেলেন শুধুমাত্র বরাত জোরে।
বুধবার রাতে তুমুল বৃষ্টি চলছে। তারই মধ্যে ভাত রান্নার জন্য বাড়ির উঠোনে মজুত করে রাখা জ্বালানী কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন ময়নাগুড়ির রামশাই এলাকার বাসিন্দা ফাগু ওঁরাও। কাঠ নাড়াচাড়া করতেই বিশাল ফনা তুলে ফোঁস করে ওঠে কিং কোবরা। তা দেখে ভিমড়ি খাবার অবস্থা হয় ফাগুর। কাঠ ফেলে এক ছুটে ঘরে ঢুকে গিয়ে বন্ধ করে দেন দরজা। ফোন করেন বন দফতরের রামশাই রেঞ্জ অফিসে।
খবর পেয়ে রেঞ্জ অফিস যোগাযোগ করে ময়নাগুড়ির পরিবেশকর্মী নন্দু রায়ের সঙ্গে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি তাঁর টিম নিয়ে চলে আসেন ফাগুর বাড়িতে। তুমুল বৃষ্টি মাথায় করে প্রায় তিন ঘন্টার চেষ্টায় অবশেষে খাঁচা বন্দি করা হয় এক বিশাল কিং কোবরা। ১৪ ফুটের কিং কোবরা উদ্ধারে চাঞ্চল্য ছড়ায় ময়নাগুড়ির রামশাই এলাকায়।
নন্দু রায় বলেন, ‘‘রামশাই রেঞ্জ অফিস থেকে খবর পেয়ে আমি আর দেরি করিনি। টিম নিয়ে সোজা স্পটে পৌঁছই। এই সিজনে ময়নাগুড়ি ব্লকে প্রথম অক্ষত অবস্থায় কিং কোবরা উদ্ধার করলাম। তিন ঘণ্টা সময় লাগল। আমাদের ধারনা গরুমারা জঙ্গল কাছাকাছি হওয়ায় সাপটি জাতীয় উদ্যান থেকেই বেরিয়ে এসেছে। এই সময় সাপ সাধারনত দু’টি কারণে বের হয়। প্রথমত খাবার সংগ্রহের জন্য। দ্বিতীয়ত প্রজননের কারণে। এই নিয়ে আমার জীবনে আমি মোট আটটি কিং কোবরা উদ্ধার করলাম।’’ সাপটিকে গরুমারা প্রকৃতি বিক্ষণ কেন্দ্রে দিয়ে এসেছেন তিনি।
মঙ্গলবার বিকেলেই ফাইল খুঁজতে গিয়ে সাপ দেখে হুলুস্থুল কাণ্ড বাধে ময়নাগুড়ি ট্র্যাফিক পুলিশের দফতরে। সকলের অজান্তে কোনওভাবে ঢুকে গিয়েছিল একটি বিশাল সাইজের র্যাট স্নেক। এরপর সেটি আশ্রয় নেয় অফিস র্যাকে থাকা ফাইলের ফাঁকে। বিকেলে মামলার জন্য র্যাকে রাখা দরকারি ফাইল খুঁজতে যান এক পুলিশ কর্মী। ফাইল নাড়াচাড়া করতেই মুখ বের করে র্যাট স্নেকটি। ফাইলের পাশে বিশাল সাপ দেখে চিৎকার করে অফিস থেকে ছুটে বেরিয়ে আসেন ওই পুলিশ কর্মী। এরপর হুলুস্থুলু শুরু হয় ময়নাগুড়ি ট্রাফিক পুলিশ অফিসে।
ময়নাগুড়ি ট্রাফিক পুলিশের ওসি মানিক দাসের কাছে খবর পেয়ে সেখানেও দলবল নিয়ে পৌঁছে যান নন্দু রায়। বেশ কিছুক্ষণের চেষ্টায় সাত ফুট লম্বা সাপটিকে ধরে নিয়ে অফিসের কাছাকাছি একটি জঙ্গলে ছেড়ে দেন। জানান, ইঁদুর এদের প্রিয় খাবার। তাই নাম র্যাট স্নেক।