দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব মেদিনীপুর: শুভেন্দুর গড়ে সভা করতে আসছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সভামঞ্চ তৈরির আগে শনিবার খুঁটিপুজো হল জাঁকজমক করে।
বাংলায় দুর্গাপুজোয় আগে খুঁটিপুজোর চল ছিল না। থিমের পুজোর হিড়িক শুরু হওয়ার পর খুঁটিপুজো নিয়ে জাঁকজমক বাড়ে। কলকাতা থেকে তা ছড়িয়ে পড়েছে জেলায়, পাড়ায়।
ইদানীং সম্ভবত একুশের সভার আগেও খুঁটিপুজো হয়। এ বার সেটাই ছড়াচ্ছে জেলাতেও। কোনও রাজনৈতিক সভার আগে এমন খুঁটিপুজো আগে দেখেনি কাঁথি। একেই চলতি রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সরগরম অধিকারীদের খাসতালুক। জাঁকজমকের খুঁটি পুজো তাতে বাড়তি মাত্রা যোগ করল।
ফেব্রুয়ারির ৬ তারিখ কাঁথির দইসাই মাঠে তৃণমূলের সভা। বক্তব্য রাখবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সভা মঞ্চ তৈরির আগে শনিবার খুঁটিপুজো করলেন তৃণমূল নেতা কর্মী ও আয়োজকরা। হিন্দু শাস্ত্র মতে রীতিমত ব্রাহ্মণ ডেকে শাঁখ কাঁসর ঘণ্টা বাজিয়ে খুঁটি পুজো সারা হল। সেই খবরেই শোরগোল পড়েছে পূর্বমেদিনীপুর জেলার রাজনৈতিক মহলে। কটাক্ষ-পাল্টা কটাক্ষ শুরু হয়েছে সকাল থেকেই।
বছর পাঁচেক আগে চণ্ডীপুরে সভামঞ্চে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে চড় মেরেছিলেন এক যুবক। সেই কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সিপিএমের জেলা নেতা ঝড়েশ্বর বেরা বলেন, ‘‘এ বার যাতে তেমন কিছু না ঘটে তার জন্য আগে থেকেই সাবধান হয়ে যাচ্ছে তৃণমূল। তাই মঞ্চ বাধার আগেই খুঁটি পুজো করে নিচ্ছে দল। তবে এ সবে কিছু হবে না। আসলে হচ্ছে মানুষের সমর্থন।’’
আবার বিজেপি বলছে শুভেন্দুর গড়ে সভা করছেন অভিষেক। লোক টানার ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দিহান তৃণমূল। তাই ভগবানকে ডাকা শুরু হয়ে গেছে। ঠাকুর ঠাকুর করে কিছু লোকজন যাতে জোটে। এককদম এগিয়ে বিজেপি নেতা কণিষ্ক পণ্ডার কটাক্ষ, ‘‘তৃণমূল এখন অভিষেককে দেবতা ঠাউরেছে। আমরা তো জানি দেবদেবীর পুজোর প্যান্ডেল তৈরির আগে খুঁটি পুজো হয়। এটাই হিন্দুশাস্ত্রের রীতি। এই দণ্ডকে নারায়ণের সঙ্গে তুলনা করা হয়। রাজনৈতিক সভার আগে এমন খুঁটিপুজো আমাদের শাস্ত্রের লজ্জা।’’
তৃণমূলের পাল্টা বক্তব্য, দিকে দিকে সন্ত্রাস ও অশান্তির আবহ তৈরি করছে বিজেপি। সেখানে শান্তিস্থাপনই এখন মূল লক্ষ্য। মানুষেরও সেটাই দাবি। এই সভা ঘিরে যাতে কোনও অশান্তি গন্ডগোল না হয় তারজন্যই পুজো করা হল। এখানে কোনও নেতাকে ঈশ্বর ভেবে কিছু করা হয়নি।’’