দ্য ওয়াল ব্যুরো, বীরভূম : শিক্ষক কর্মচারীদের বেতনের অর্থ নিয়ে মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের সঙ্গে মন কষাকষি তীব্র হল বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের। ফান্ড কম থাকায় শিক্ষক-কর্মচারীদের ফেব্রুয়ারি মাসে বেতন বিলম্বিত হবে বলে সোমবার বিজ্ঞপ্তি জারি করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি জানতে পেরেই মঙ্গলবার উপাচার্যের ব্যাখ্যা তলব করেছে মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক।
মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব গিরিশ হোসুর বলেন, “ফান্ডের কোনও অসুবিধা নেই। বিশ্বভারতীর ফান্ড ঠিক সময়েই ছাড়া হয়েছে। কেন এমন ভুল বিজ্ঞপ্তি জারি করা হল, সে ব্যাপারে উপাচার্যের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।”
মন্ত্রকের এই অবস্থান প্রসঙ্গে বিশ্বভারতীর জয়েন্ট রেজিস্ট্রার (অ্যাকাউন্টস) সঞ্জয় ঘোষের পাল্টা দাবি, ‘‘মন্ত্রক ব্যাখ্যা চেয়েছে, আমরা দেব। আমাদের লুকোনোর কিছু নেই। বারো মাসের বেতন বাবদ আমরা ২৩০ কোটি টাকার বাজেট পাঠিয়েছিলাম। মন্ত্রক দিয়েছে ১৬০ কোটি টাকা। সেই টাকায় জানুয়ারি পর্যন্ত দশ মাসের বেতন দেওয়া গেছে। বাকি দু-মাসের বেতন প্রদানে সমস্যা আছে।’’
বিশ্বভারতীর জন সংযোগ আধিকারিক অনির্বাণ সরকার আগেই জানিয়েছিলেন, ফাণ্ডে অপ্রতুলতার জন্যই ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন বিলম্বিত হবে। উপাচার্য এব্যাপারে মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকে তদবির করতে গেছেন। ২৭ তারিখ পর্যন্ত তাঁর জায়গায় দায়িত্বে থাকবেন শিক্ষাভবনের অধ্যক্ষ কাশীনাথ চট্টোপাধ্যায়।
এই টানাপড়েন নিয়ে শোরগোল পড়ে গেছে গোটা বিশ্ববিদ্যালয়ে। অনেকেই এই ইস্যুতে তুলোধোনা করেছেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদুৎ চক্রবর্তীকে। এক প্রাক্তন আধিকারিক বলেন, “আগেও বহুবার এমন পরিস্থিতিতে ওভারড্রাফট নেওয়া হয়েছে। এটা সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়েই হয়ে থাকে। এটা সংবাদমাধ্যমের জানার বিষয় হিসেবে আগে কোনওদিন আসেনি। শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের আতঙ্কিত করার জন্য ইস্যুও করা হয়নি।”
বিশ্বভারতীর অধ্যাপক সংগঠন “উপাচার্য মন্ত্রকের নামে অপবাদ দিয়ে বেতন বিলম্বের নোটিস দিয়েছেন। যাতে অধ্যাপক ও কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক তাঁকে মিথ্যাচারের অপরাধে কারণ দর্শাবার নোটিস দিয়েছে।”